সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

পল্লবীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় ২ মামলা, আসামি শতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পল্লবীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় ২ মামলা, আসামি শতাধিক
ছবির বায়ে পল্লবীতে সংঘর্ষের সময়ের একটি চিত্র। ডানের ছবিতে পড়ে আছে একটি গুলির খোসা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে টয়লেটের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানে লাশের গোসল ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তাতে শতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) পল্লবী থানায় মামলা দুটি হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বাদি পল্লবী থানার এসআই ফেরদৌস জামান, অন্যটির বাদী শাকিল খাঁন নামে এক ব্যক্তি। 

‎মামলার আসামিরা হলেন- বিহারী নেতা নিয়াজ আহমেদ খান, সুমন, নাসির উদ্দিন খান সজল, আবরার আহমদ খান, মো. কুরবান, আরমান, সরফরাজ খান পাপ্পু, মোস্তাক, আশরাফুল ইসলাম, মানিক খান, টিটু, বেচু, ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হোসেন, আদনান, সাইমন, ফিরোজ, সনু, আলম, রিফাত, মানিক, নান্নু, পারভেজসহ অজ্ঞাত ১০০/১৫০ জন।‎

‎মামলার এজাহারে এসআই ফেরদৌস জামান উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বিকালে কালশী এলাকায় ডিউটি করার সময় তিনি জানতে পারেন, পল্লবী থানাধীন মিরপুর ১১ নম্বর মাদরাসা ক্যাম্পের সামনে জামায়াত ইসলামী সমর্থক বিহারী ও বিএনপি সমর্থক বিহারীদের মধ্যে পানির পাম্প ও মৃতদেহ গোসলের স্থান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি থানা কর্তৃপক্ষকে জানালে পল্লবী থানার ওসির নেতৃত্বে থানার অন্যান্য ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।‎

‎পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মামলার প্রধান আসামি বিহারী নেতা নিয়াজের নেতৃত্বে জামায়াত সমর্থিত আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনের একটি দল লাঠি, লোহার রড, হাসুয়াসহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনে আসে। পুলিশ আসামিদের সেখানে থেকে সরে পেছনে যেতে বললে তারা সরে না গিয়ে উল্টো পুলিশকে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে আসামিরা। পরে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। আসামিদের হামলায় পল্লবী থানার ওসিসহ (তদন্ত) আরও ৫/৬ জন পুলিশ আহত হয়। এ সময় আসামিরা সেখানে উপস্থিত বিএনপি সমর্থিত বিহারী নেতাকর্মীদেরও আক্রমণ করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।‎
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিহারি ক্যাম্পে টয়লেটের জন্য বরাদ্দকৃত ফাঁকা একটি জায়গায় লাশের গোসলের স্থান নির্মাণ করতে চান জামায়াত সমর্থকরা। আর বিএনপি সমর্থকরা সেখানে টয়লেট ও পানির পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গত ৪/৫ দিন দুপক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। অবশেষে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।‎

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই মো. আরিফ রব্বানী বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

এর আগে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) পল্লবীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে পল্লবী থানার ইন্সপেক্টর তদন্তসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।‎

‎একেএস/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর