রাজনীতিতে হঠাৎ ‘উত্তাপ’, নানা গুঞ্জন

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২২, ০৬:১১ এএম
রাজনীতিতে হঠাৎ ‘উত্তাপ’, নানা গুঞ্জন
ছবি: ঢাকা মেইল

অনেক দিন ধরেই দেশের রাজনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল। সম্প্রতি বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য ঘিরে ইতিবাচক আবহও তৈরি হয়েছিল। তবে ভোলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘিরে হঠাৎই উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে। শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জনও।  

গত ৩০ জুলাই লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতের অব্যস্থাপনার প্রতিবাদে ভোলায় কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হয়। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার মৃত্যু ঘিরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে সরকারও রয়েছে হার্ডলাইনে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, বিএনপি তাদের কর্মসূচি ঘিরে কোনো নাশকতা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

গত ২৩ জুলাই দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকুক- সেটাই আমি চাই। কেউ যদি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে, তাতে যেন বাধা দেওয়া না হয়।’ নিজ কার্যালয়ে এলে আপ্যায়ন করার পাশাপাশি কথা শুনবেন বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তার এমন বক্তব্য নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গন নানা ধরনের আলোচনা চলছিল, তখনই ভোলার ঘটনা রাজনীতির মোড় অনেকটা পাল্টে দিয়েছে। 

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি দুই সহযোদ্ধাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছে। তবে ভোলার সংঘর্ষ ও হতাহতের জন্য বিএনপিকে দায়ী করছে সরকারি দল। শুক্রবার (৫ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভোলার ঘটনা কে ঘটিয়েছে? ভিডিও ফুটেজ দেখুন। কীভাবে ঘটেছে, কারা আক্রমণ করেছে, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারা মিছিল করেছে, কারা সেই অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। পুলিশ কী করবে? আঙুল চুষবে? ভোলায় বিএনপির ঘাতক চেহারা স্পষ্ট হয়েছে।’

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার কীভাবে আন্দোলন দমাতে চায়, ভোলায় তার প্রমাণ দেখিয়েছে। গুলি করে তারা আন্দোলন দমন করতে চায়। কিন্তু আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করবো। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই হত্যার প্রতিশোধ নেব।’

তবে ভোলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেওয়া হলেও পরপর দুটো মানুষের মৃত্যু সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি করেছে। দুই পক্ষই সহনশীল হলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন অনেকেই। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সহনশীতার রাজনীতিতে আর বিএনপি হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। অতীতে এমন অনেক ঘটনা আছে। কিন্তু ভোলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। কোনো রক্তপাত আমরা অবশ্যই চাই না। আশা করি ভোলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গত ৩০ জুলাই সংঘর্ষে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আবদুর রহিম নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী খাদিজা বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছেন। এতে ভোলা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপ-পরিদর্শকসহ ৩৬ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোলায় হরতালের পাশাপাশি দেশজুড়ে সাত দিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নামপ্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সরকার হার্ডলাইনে গেলে আমাদেরও বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই। ভোলার ঘটনায় আমাদের আরও জাগিয়ে তুলছে। এমন চলতে থাকলে পরিস্থিতি ‘ঢু অর ডাই’ দিকে গড়াবে।’

যদিও ভোলার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের অভিযোগের তীর সরকারের চেয়ে পুলিশের দিকে বেশি। দলটির দাবি, ভোলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। 

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘প্রমোশন ও পুরস্কারের লোভে এসপি বিএনপির মিছিলে নারকীয় তাণ্ডবের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ মাঠে কার্যকর করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত আকরাম হোসেন ও ওসি এনায়েত হোসেন।’

ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাহলে কি বিএনপি শক্তভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে- এমন প্রশ্ন ছিল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মাঠেই আছি। আন্দোলনে সফল না হওয়া পর্যন্ত মাঠেই থাকবো। কিন্তু ভোলার ঘটনায় আমাদের দুই সহকর্মীকে হারিয়ে সবাই শোকাহত। এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি সরকার যত কৌশল করবে তাদের পতন তত তরান্বিত হবে।’

বিইউ/জেবি/এইউ