মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বদলে গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির প্রথম সারির আসনবিন্যাস। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ঠিক পাশের আসনেই ঠাঁই হয়েছে তার। এতে জোরালো হচ্ছে নতুন আলোচনা-সালাহউদ্দিন কি শুধু ফখরুলের ছেড়ে যাওয়া আসনটিই পেলেন, নাকি সংসদে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বের জন্য তাকে সামনে আনা হচ্ছে? বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সংসদ উপনেতার পদে তার নাম আলোচনায় এসেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে আসনবিন্যাসকে কোনো পদ বা দায়িত্বের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদ উপনেতা করারও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত দল ও সরকারে সালাহউদ্দিন আহমদের বর্তমান অবস্থানের কারণে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। ফলে সরকার পরিচালনায় তার ভূমিকা ইতোমধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে বিএনপির নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। ফলে দল ও সরকার, দুই ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ও দায়িত্ব রয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন। এখানেও আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবু সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় তার নাম থাকা তার রাজনৈতিক গুরুত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলীয় ও সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার সংসদীয় আসনও শূন্য হয়।
এরপর সংসদে নতুন আসনবিন্যাসে তারেক রহমানের পাশের আসনে উঠে আসেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার পরের আসনে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এরপরের আসনে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ফলে মির্জা ফখরুলের জায়গায় সালাহউদ্দিন আহমদের বসা নিছক আসন পরিবর্তন হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যখন সংসদ উপনেতার পদটি এখনো শূন্য রয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অবস্থানকে অনেকেই সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দায়িত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।
সংসদ উপনেতার পদটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী দায়িত্বের বিকল্প নয়। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা, সংসদ নেতাকে সহায়তা, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে এ পদে।
বিশেষ করে বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা থাকলে একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাকে উপনেতার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই বিবেচনায় সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় আসা অস্বাভাবিক নয়। তিনি একই সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমেও সক্রিয়। ফলে তাকে উপনেতা করা হলে দল ও সরকারের মধ্যে সংসদীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদকে সংসদ উপনেতা করা হচ্ছে-এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সংসদ উপনেতা কে হবেন, সেটি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের এখতিয়ার।
ফলে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদের অবস্থানকে সরাসরি উপনেতা হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার বর্তমান অবস্থান, দলের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব-সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে আলোচনা যে গুরুত্ব বহন করছে, তা স্পষ্ট।
জেবি




