‘সমাবেশে গুলির নির্দেশদাতা পুলিশ সুপার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২২, ০৫:০৮ পিএম
‘সমাবেশে গুলির নির্দেশদাতা পুলিশ সুপার ছাত্রলীগের সাবেক নেতা’
ছবি: ঢাকা মেইল

ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপারকে দায়ী করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভোলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলির নির্দেশদাতা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা।  

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিএনপির বিকেলে বিএনপি কেন্দ্র কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রমোশন ও পুরস্কারের লোভে এসপি সাইফুল বিএনপির মিছিলে নারকীয় তাণ্ডবের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ মাঠে কার্যকর করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. আরমান হোসেন ও ওসি এনায়েত হোসেন। ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেনকে সরাসরি গুলি করতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের কিলার ইন্সপেক্টর আকরাম হোসেন এবং ওসি এনায়েত হোসেন জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের আদেশ-নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যস্ত থাকেন।’

এছাড়া ভোলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। 

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘দেউলিয়াত্বের মুখে পড়ে নিশিরাতের সরকার জনরোষ থেকে বাঁচতে হিংস্র হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট, সীমাহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের প্রতিবাদে সারাদেশ যখন প্রতিবাদমুখর, তখন দখলদার সরকার জোরপূর্বক ক্ষমতায় থাকতে বেসামাল হয়ে জনগণের ন্যায়সঙ্গত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ করে পাখির মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করছে।’

অ্যাডভোকেট রিজভী বলেন, ‘গত ৩১ জুলাই দেশব্যাপী জেলায় জেলায় বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের অংশ হিসেবে ভোলা জেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আওয়ামী পুলিশ বেপরোয়াভাবে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিমকে। হত্যা করেছে ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমকে। আরও ১৯ জন ঢাকায় ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চালিয়ে আবারও প্রমাণ করলো বল প্রয়োগ করে জবরদস্তি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা আব্দুর রহিম ও নুরে আলমের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। জনগণের অভ্যুত্থানে এই সরকারের পতন ঘটবে। তারপর জনগণের সরকার কড়ায় গণ্ডায় বিচার করবে। সকল হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গত এক যুগ ধরে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসন ও আইন আদালত সবকিছু সম্পূর্ণ ছাত্রলীগের প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী ক্যাডার দিয়ে সাজিয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে সাতক্ষীরা জেলে আটকে রাখা হয়েছে। কারাগারে তিনি এখন গুরুতর অসুস্থ। কারাকর্তৃপক্ষকে অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও তার চিকিৎসার কোনো নেয়নি। সরকারের নির্দেশে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার আয়োজন করছে। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার সমস্ত বিধান থাকলেও সরকার সেটিকে উপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই মূলত এক্ষেত্রে কাজ করছে। অবিলম্বে তার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রমুখ। 

এমই/এইউ