রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। কিন্তু কেন ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন তা পরিস্কার করলেন তিনি। তার ভাষ্য, ভোট না দেওয়ার কারণ এটি ‘অর্থহীন’ নির্বাচন হওয়া।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটি কোনো নির্বাচন নয়। ভোটের ফলাফল কী হবে, তা সবারই জানা ছিল। তাই এটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন।’
তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেছে, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে মানুষের আত্মত্যাগ ও অনেক স্বপ্ন জড়িত। এমন একটি পরিস্থিতিতে সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা যেত। কিন্তু তা করা হয়নি।’
আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ৬ এমপি
রাষ্ট্রপতি পদে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে কেন মনোনীত করা হলো না, সেই প্রশ্নও তোলেন সাবেক এই বিএনপি নেত্রী।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রুমিন বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০ নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলছে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে দলের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
এ ধরনের ‘প্রহসনের ভোটে’ কেন তিনি অংশ নেবেন, সেই প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন বলা যায় না। এ কারণে তিনি ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ছাড়া আরও পাঁচ সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
এএইচ/এএম




