- সিন্ডিকেটের লোক বসাতে শ্রমিকদলের প্রার্থী হওয়ায় হামলা করেন যুবদল নেতা
- যুবদল নেতা জাহিদ মোড়লসহ হত্যাচেষ্টা মামলায় অনেকে ইতিমধ্যে জামিন নিয়েছেন
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত শ্রমিকদল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকদল নেতা নিহত হওয়ার পর তাঁর মরদেহের সুরতহাল শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে আহত হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রমিকদল নেতার স্ত্রী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের স্ত্রী শিরিন আক্তার জানান, যুবদল নেতা জাহিদ মোড়লের নির্দেশে তাঁর স্বামীকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী কুপিয়ে আহত করে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এর আগে তাঁকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। সে সময় হুকুমের নির্দেশদাতা জাহিদ মোড়লসহ অনেকে আদালত থেকে জামিন নেন।
আমার স্বামী ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাঁকে জাহিদ মোড়ল প্রার্থী হতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি তা না শোনায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাহিদ মোড়ল তাঁর সিন্ডিকেটের লোক বসাবেন, তাই আমার স্বামীকে সরিয়ে দিতে এই হামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি সব আসামির বিচার চাই। আমার স্বামীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আমি মামলা করেছিলাম। আমি চাই, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আজ সেই শ্রমিকদল নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের বিষয়টি আমরা আদালতকে অবগত করব।
আরও পড়ুন: শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে হামলা করে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লকে প্রধান আসামি করে আরও ২১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, পিচ্চি জুয়েল, মনির হোসেন, মনির হোসেন শান্ত, পাপ্পু, আসাবুর রহমান, লিমন, মামা সাইফুল, সোহেল, সুজন ওরফে কালা সুজন, আল আমিন, ছোট ফেরদৌস, জাফর, জসিম, ইমরান, খাইরুল, ইমরান হোসেন বায়েজিদ, উজ্জল, জীবন ও ফেরদৌস।

এজাহারে ভুক্তভোগীর স্ত্রী শিরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল একজন ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়ল তাঁর স্বামীর ওপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাঁকে শায়েস্তা ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে জাহিদ মোড়ল অন্যান্য আসামির সঙ্গে যোগসাজশ ও পরিকল্পনা করে আসছিলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল অবস্থানকালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি জাহিদ হোসেন মোড়লের নির্দেশে অন্য আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে রাসেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ৬ নম্বর আসামি মনির হোসেন শান্ত তাঁর হাতে থাকা সামুরাই দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লক্ষ্য করে কোপ দেন। প্রাণরক্ষার্থে রাসেল ডান হাত দিয়ে সেই কোপ প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সামুরাইয়ের আঘাত তাঁর ডান হাতের কনুইয়ে লাগে। এতে সেখানে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এ সময় ৭ নম্বর আসামি পাপ্পু তাঁর হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে রাসেলের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। রাসেল ওই আঘাত বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তাঁর বাম হাতের তিনটি আঙুলে চাপাতির আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত কাটা জখম হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অন্য আসামিরাও রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁদের হাতে থাকা চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও আঘাত করে জখম করেন। রাসেল ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তখন আসামিরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একেএস/এআর




