চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আট শ্রমিক নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন এ দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পুরোনো জাহাজ কাটার আগে এর ভেতরে থাকা দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত ও অপসারণের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান বলেন, সীতাকুণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো শিল্প কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল হলে সেখানে শ্রমিকদের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ঘটনার ভয়াবহতা অনুমান করা যায়।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ধরনের ঘটনাকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জাহাজ কাটার আগে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস শনাক্ত ও অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ইয়ার্ড মালিকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।
তারা আরও বলেন, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের সব জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এমআর/এএস




