বাগেরহাটে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুহাম্মাদ নওশের ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সংগঠনটির দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে নওশেরকে পথরোধ করে স্টিলের পাইপ ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জামায়াত ও ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাটের গোপালপুর রোডে নওশের ইসলামের পথরোধ করেন মোটরসাইকেলে আসা চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল ইসলাম রাহাতের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত শিবিরনেতা মেহেদী রিয়াদের নেতৃত্বে তারা নওশেরকে প্রথমে গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করেন।
একপর্যায়ে তাকে রাস্তার পাশের কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলে দিয়ে স্টিলের পাইপ ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। অন্যরাও তাকে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এক পদের ‘ধাক্কা’, বিএনপিতে নানা সমীকরণ
হামলায় নওশের গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারা জড়িত, তা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা কোনো ধরনের প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ আড়াল করার সুযোগ নেই।
তারা আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে পেশিশক্তি, ভয়ভীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।
বিবৃতিতে নওশের ইসলামের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সাংগঠনিক ও আইনানুগভাবে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।
এমআর/এআরএম




