বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

কাউকে অসম্মান নয়, জনদাবি সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

কাউকে অসম্মান নয়, জনদাবি সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে সেই দাবিগুলো তুলে দিতে চাই।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রাকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এসে ১১ দলীয় ঐক্যের ১০ দফা দাবি গ্রহণের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।

তিনি বলেন, যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে সরকারের কোনো প্রতিনিধি না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে জামায়াতের নারী কর্মীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার পাতিল দেখা যায়, যা প্রতীকী প্রতিবাদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে স্লোগান দেন। কর্মসূচির কারণে পল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি, দায়ীদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল এবং অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা।

এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাসের সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ, স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।

কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর