বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভারত আজও শেখ হাসিনার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারত আজও শেখ হাসিনার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারত আজও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।  একজন পলাতক ও দণ্ডিত আসামিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত দ্বৈত নীতি বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’র পরিচয় দিচ্ছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের একজন আইনজীবী শেখ হাসিনার আইনি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে দিল্লিতে গেলেও ভারত সরকার তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। 

অথচ বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভারত স্পষ্টভাবে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করছে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই একসময় বলেছিলেন, তিনি ভারতকে এমন কিছু দিয়ে গেছেন, যা ভারত চিরদিন মনে রাখবে। আজকের ঘটনাপ্রবাহে সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। 

বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক একজন আসামিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ করছে। অন্য দেশের একজন দাগি আসামি যদি ভারতপন্থী হন, তাহলে তার জন্য যেন সবকিছুই বৈধ হয়ে যায়।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনা যেহেতু ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন, তাই সেখানে যে কোনো ধরনের জনসমক্ষে বক্তব্য বা কর্মসূচির ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ও সরকারের অনুমতির বিষয়টি অবশ্যই প্রযোজ্য। 

সেই বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের কোনো অনুষ্ঠানে একজন পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়া ভারতের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, জুলাই আন্দোলনের জীবন্ত ইতিহাস সংরক্ষণে ফটোসাংবাদিক বাবুল তালুকদার ও সংশ্লিষ্টদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। 

পুলিশের গুলির মুখেও যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছবি ধারণ করেছেন, তাদের সেই কাজ আজ সাধারণ মানুষের সামনে উন্মুক্ত হয়েছে। এসব আলোকচিত্র শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মূল্যবান হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রদর্শনী রাজনৈতিক কর্মীদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে যদি আবারও কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে, তাহলে গণতন্ত্রকামী মানুষ সেই শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আরও সাহস পাবে। 

কারণ গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, বুদ্ধিজীবী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আবারও একসঙ্গে ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী। 

এএইচ/এআরএম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর