ক্ষমতার দাম্ভিকতায় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিলে বর্তমান সরকারেরও আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন।
তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তাই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সেখান থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়।
মোবারক হোসেন বলেন, ‘জুলাইকে যারা মুছে দিতে চায়, তাদেরকেই মুছে দিতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা তরুণ প্রজন্ম ভুলবে না এবং মুছতে দেবে না। জুলাইয়ের কারণেই অনেকে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতার পরিচয় দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। শেখ হাসিনা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু জনগণের বিপক্ষে যাওয়ায় সেই লক্ষ্য ধুলোয় মিশে গেছে। জনগণ শুধু ক্ষমতা থেকেই নামায়নি, দেশ ছাড়তেও বাধ্য করেছে। আজও যারা ক্ষমতার দাম্ভিকতায় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে।’
আওয়ামী লীগের পরিণতি ভোগ করার আগেই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না। তার ভাষ্য, জনগণের মতামতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কিন্তু বিএনপি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে অগণতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সরকার যদি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে জনগণই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। তবে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে জামায়াত।
বুলবুল বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বিএনপি হলেও পরবর্তীতে দলটি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনকে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার আরেকটি উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, জনগণ সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার চায় এবং গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সেই সংস্কারের পক্ষেই মত দিয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট চত্বর হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভায় ডাকসু ভিপি মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ার দাবি থেকে তারা পিছিয়ে যাবেন না। তিনি দাবি করেন, সুযোগ পেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
টিএই/এএইচ




