শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপির স্থায়ী কমিটি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠক করলেন। বৈঠকে দলের রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নের দায়িত্ব দলীয় প্রধানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। 

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে বৈঠক শেষে একথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রাত আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সভা শুরু হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিশেষ অধিবেশন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন পড়লে স্পিকারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব নেওয়া তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল থেকেই। অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখেও তিনি তাৎক্ষণিক পদত্যাগ না করলেও জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায়, গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়। এর দুই দিন পর, ২৪ জুলাই ‘শারীরিক ও মানসিক’ অক্ষমতার কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত মেয়াদের পৌনে দুই বছর আগেই পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে সংবিধানে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুসারে, শূন্য পদ পূরণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদে এককভাবে ২১০টি আসন পেয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের জোট ৭৭টি আসন অর্জন করেছে। সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনেও এগিয়ে থাকা বিএনপির প্রার্থীই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত।দলের ভেতরের ও বাইরের দায়িত্বশীল সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য হিসেবে নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে- হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার), বিএনপি মহাসচিব  ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (স্থায়ী কমিটির সদস্য), স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান।

এর বাইরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আলোচনায় আছে।

দলীয় একটি সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই দলটি রাষ্ট্রপতির নাম প্রস্তাব করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বসতে যাওয়া সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিইউ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর