বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে। নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়ে সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ সূত্র এবং ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান কমিটির নেতাদের বিএনপির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমান কমিটির ‘সুপার ফাইভ’-এ থাকা নেতাদের কাছে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে কারা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করা, ছাত্রশিবিরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জনের মধ্যেও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এ কারণে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভ’-এ থাকা নেতাদের কাছে মাঠে সক্রিয় নেতাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়াকে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তবে কবে নাগাদ বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, সে বিষয়ে বিএনপি বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা যায়, নেতাকর্মীদের মধ্যে কমিটি ভাঙার আলোচনা এখন তুঙ্গে। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর নজরদারি রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন বেশ কয়েকজন সভাপতি পদপ্রত্যাশীর নাম। তারা হলেন-বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল। রুয়েল দীর্ঘদিনের রাজপথের ত্যাগী ছাত্রনেতা। রুয়েলকে ছাত্রদলের সবাই পছন্দ করেন এবং সভাপতি দেখতে চান। সম্প্রতি রুয়েলের নাম বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুখেও শোনা যাচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন, যোগ্যতার কারণে রুয়েল হয়তো ছাত্রদলের হাল ধরতে পারেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদও রয়েছেন আলোচনায়। রিয়াদ রাজনীতি ও রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয়। এই পদে আরও একজনের নাম শোনা যাচ্ছে, তিনি হলেন সহসভাপতি এইচ এম আবু জাফর। জাফরকেও অনেকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। জাফর বিগত দিনে সংগঠনের জন্য সব কিছু বিলিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
এ ছাড়া সভাপতি পদে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান। আমানকে বিগত সরকারের সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগ ব্যাপক নির্যাতন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমানের ত্যাগের বিষয়টি জানেন ও তাকে পছন্দ করেন।
ছাত্রদল করার কারণে আমানের দীর্ঘ সময় কেটেছে জেলে। আমানের আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনিও আমানের মতো ত্যাগী ছাত্রনেতাকে যোগ্য স্থানে চাইছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সম্ভাব্য আরও সভাপতি প্রার্থীর তালিকায় যাদের নাম ঘুরছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজুর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হন।
আওয়ামী দোসরদের মিথ্যা মামলায় ২০১৯ সালে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে অনেক নির্যাতন করেছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা এই ছাত্রনেতাকে তৃণমূলের একটি বড় অংশ নেতৃত্বে চাইছেন। আলোচনায় রয়েছেন সহ-সভাপতি শাফি ইসলাম ও খোরশেদ আলম সোহেল। তারাও রাজপথে সক্রিয় ও নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচিত।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও আলোচনায় রয়েছে কয়েকজনের নাম। তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সূর্যসেন হলের সাবেক সভাপতি শামিম আকতার শুভ, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ ও মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।
পাশাপাশি রয়েছেন- কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাবির ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স।
মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সূত্র মতে, এর মধ্যে জিসান ও ফারুকের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। জিসান ও ফারুক ৫ আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া এ পদে প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভও আলোচনায় আছেন। অনেকেই শুভকে এই পদে যোগ্য মনে করেন।
এআরএম




