খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার গণভোট, গণরায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সরকার গণরায়ের সঙ্গে ‘নির্মম তামাশা’ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ গার্ডেনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘১৯৭০ সালে গণমানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। একইভাবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণমানুষের রায়কে উপেক্ষা ও বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের নির্মম শাস্তি দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’
আরও পড়ুন: রিসোর্টকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিলেন মামুনুল হক
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমান সেই ভুল পথে পা বাড়াবেন না। তিনি কোনোভাবেই শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করবেন না। বরং দেশের মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কারের পথে অগ্রসর হবেন। অন্যথায় আমরাও রুখে দাঁড়াব।’
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি যদি ভারতের ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তাহলে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আদালতের হাতে তুলে দেওয়াই তাদের একমাত্র পথ।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-মময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শারাফাত হুসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, মেহেরপুর জেলা সভাপতি মাওলানা হোসাইন আহমাদ, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আরিফুজ্জামান আরিফ, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান লাল এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শাহরীয়ার আলম।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন- খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি শুয়াইব আহমেদ কাসেমী।
প্রতিনিধি/এমআই




