বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

চলতি বছরই দেশে ফিরব, এনডিটিভিকে হাসিনা

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চলতি বছরই দেশে ফিরব, এনডিটিভিকে হাসিনা
দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে গণহত্যার অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আরও শতাধিক মামলার বিচারকাজ চলমান। এই অবস্থায় চলতি বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন।

রোববার (২৮ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এই কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাইসহ প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই আমি আমার দেশে ফিরব।

নিজের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ কাগুজে সংগঠন নয় দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলার মাটি, মানুষ, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহুবার হামলা, রক্তপাত ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

হঠাৎ কেন হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা?

রাজনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টালেন হাসিনা

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কোনো দলের দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণের সমর্থনই দলটির মূল শক্তি।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। কিন্তু তারা মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি।

Hasina2
গণহত্যাসহ দুই শতাধিক মামলার আসামি শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং হাজারো মামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের ওপর নির্ভর করে।

তার দাবি, দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা কিংবা নির্বাচনের বাইরে রাখলেও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে সরানো যায়নি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিচ্ছেন। এটি দলটির পুনর্জাগরণের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগ এখন কী করবে

পলায়নেও প্রটোকল ও বিমানযাত্রা!

৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মন্দির, সুফি দরগাহ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো প্রচারণা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।

এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না, জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর