বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের মতবিনিময় সভায় বাধা ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে মিরপুরের রূপনগর এলাকায় এই বিক্ষোভ হয়।

মিছিল-পূর্ব সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা-১৬ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংস্কৃতিকে পদদলিত করে বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াতের ওপর হামলা চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ হামলা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। 

নাসির উদ্দিন ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ আগামী দিনে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, হামলা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের কোনো কর্মীকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না। কাউন্সিলর প্রার্থীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেও জামায়াতকে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জামায়াত ছাড় দিতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের প্রশ্নে পিছিয়ে যায় না। ক্ষমতাসীনদের প্রতি তিনি সন্ত্রাস ও উসকানির রাজনীতি বন্ধ করে আইন ও সাংবিধানিক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

রূপনগর থানা আমির আবু হানিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসানুল বান্না চপল, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমির আশরাফুল আলম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের, পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম পবন ও ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান প্রমুখ। 

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি রূপনগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর-১১ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

গত শুক্রবার বিকেলে রূপনগর এলাকায় হামলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন জামায়াত নেতাকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, তিনি পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর আসরের নামাজের জন্য ‘ট’ ব্লকের মসজিদে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, তার পিএসের মাধ্যমে স্থানীয় ওসিকে ফোনে ও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়, তবে ওসিকে দুপুরের আগে পাওয়া যায়নি। পরে কথা হলে তিনি সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দেন, যার প্রেক্ষিতে তিনি বড় ধরনের ঘটনা এড়াতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

আব্দুল বাতেন অভিযোগ করেন, পরে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় বিএনপি, ছাত্রদল, কৃষকদল ও যুবদলের মহানগর ও স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মী জড়িত ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার জন্য রূপনগর থানা পুলিশকে দায়ি করে আব্দুল বাতেন বলেন, পুলিশ কোনোভাবেই এ দায় এড়াতে পারে না। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

টিএই/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর