ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক জাতীয় সংসদে মামুনুল হককে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, সেটি এক্সপাঞ্জ করতে হবে। এমপি আশফাক ও সংসদের স্পিকারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু তাই নয়, যারা এই কটূক্তি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের পর রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর আয়োজনে মিছিলপূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব বলেন। আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে জাতীয় সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১ আসনের এমপি বক্তব্য দিয়ে মাওলানা মামুনুল হকের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছেন। এরপরে জাতীয় সংসদের স্পিকার সেই বক্তব্য সূত্র ধরে তিনিও অশালীন মন্তব্য করে বসলেন। আমরা বলতে চাই, যদি মামুনুল হকের বিরোধিতা করতে থাকেন তবে আওয়ামী লীগ তো পালাবার জায়গা পেয়েছে আপনারা পালাবার জায়গাও পাবেন না। যে মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে সেই মামলার বিষয়ে কীভাবে জাতীয় সংসদে পরকীয়াসহ নানা অশালীন মন্তব্য করে রাষ্ট্র জানতে চায়। এজন্য তাদের প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আব্দুল আজিজ বলেন, আজকের বিএনপি ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে বিরোধী মতকে সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মাওলানা মামুনুল হকের মতো লোকের চরিত্রে কালিমা লেপন করছে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে করা যে মিথ্যা মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, মামুনুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে তিনি (ঢাকা-১ আসনের এমপি) আদালত অবমাননা করেছেন। আবু আশফাককে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না। তিনি আদালত অবমাননা করেছেন, মামুনুল হকের মানহানি করেছেন। এজন্য তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সরকার ব্যর্থ হলে আমরা দেশের ছাত্র জনতাকে নিয়ে মাঠে নামব। আমরা এই সমাবেশ থেকে বলব, আশফাকের সঙ্গে স্পিকার আপনিও জাতির কাছে ক্ষমা চান।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আবু আশফাক ও স্পিকার- আপনারা নিঃশর্তভাবে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে মামুনুল হককে নিয়ে ঢাকা-১ আসনের এমপি কটূক্তি করে তিনি শুধু সংসদের নিয়ম ভঙ্গ করেননি, তিনি দেশের শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছেন। তিনি তৌহিদি জনতার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। যারা হাসিনার মতো আচরণ করবে তাদেরকেও হাসিনার মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে। কাজেই হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। হাসিনা তো দিল্লিতে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগন সামনে কোনো স্বৈরাচারকে সীমান্ত পার হতে দেবে ন।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে আন্দোলনকারীরা বলেন, আপনাকে ফ্যাসিবাদী হাসিনার মতো কথা বলার জন্য স্পিকার বানানো হয় নাই। মামুনুল হককে নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা জাতীয় সংসদে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। যারা মামুনুল হককে নিয়ে বিষোদগার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড় হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এমআইকে/ক.ম




