বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে অন্ধ সমর্থন, আবার তাদের অযৌক্তিক বিরোধিতাও জামায়াতে ইসলামী করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি এও জানিয়েছেন, তার দল (জামায়াত) সংসদে ‘যৌক্তিক ও গঠনমূলক বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করবে। জনকল্যাণ, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সংস্কারের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরবে। তবে তা হবে সংসদীয় শালীনতা ও গঠনমূলক রাজনৈতিক আচরণের মধ্য দিয়ে। আমরা না হবো সরকারপন্থী অনুগত বিরোধী দল, না হবো অযৌক্তিকভাবে বাধাদানকারী বিরোধী দল। আমরা হবো যৌক্তিক ও বিবেকনির্ভর বিরোধী দল।’
তিনি বলেন, সংসদে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। ইতোমধ্যে তারা সংসদে ভোটারদের সমর্থিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
চলমান বাজেট অধিবেশনে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে তাদের দল কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করবে বলেও জানান জামায়াত আমির।
অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন ব্যয় সম্পন্ন করার প্রবণতার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের বর্তমান জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাব দেন।
তার মতে, ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে অর্থবছর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে, পরিকল্পনা ও তদারকি আরও কার্যকর হবে এবং অর্থবছরের শেষ দিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ অর্থবছরের শেষ কয়েক সপ্তাহে সম্পন্ন হয়। এতে কাজের মান, জবাবদিহিতা ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
বিরোধী দলীয় নেতা সম্পূরক বাজেট অনুমোদনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারি ব্যয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদের উচিত জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেটের প্রতিফলন ঘটিয়ে অর্থবহ সাংবিধানিক সংস্কারে মনোনিবেশ করা, শুধু নিয়মিত সংশোধনীতে সীমাবদ্ধ না থাকা।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও জনমতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকতে হবে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দলীয় নাটকীয়তায় জড়ানো নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি জনগণের কথা বলার জন্য। দেশ ও দেশের মানুষই আমাদের অগ্রাধিকার।’
তবে জামায়াত আমির সতর্ক করেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে সংসদের বাইরেও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি আদায়ে তাদের দল কাজ করে যাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও নাগরিকদের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং দেশের সুশাসন উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অন্য সংসদ সদ্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, শাহজাহান চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, গাজী নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানসহ অন্যরা।
এএইচ




