ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এ ঘটনাকে বেআইনি, অন্যায় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়ে ভারতের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের লঙ্ঘন করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জন ভারতীয় নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। তাদের মধ্যে ৯ মাসের গর্ভবতী নারী ও একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা, সীমান্তে ৬১ ঘণ্টা পড়ে রইল ২ শিশু। ছবি: সংগৃহীত
এ ছাড়া পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা সীমান্ত দিয়ে ১০ জন ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও শেরপুরসহ প্রায় ১১টি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে তার দাবি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই বিদেশি চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। সীমান্তে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
টিএই/এআর




