মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বিল্লাল হত্যার নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বিল্লাল হত্যার নেপথ্যে কী?
স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭)। -ফাইল ছবি

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদলের এক নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত আটটার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


নিহত বিল্লালের ভাগিনা মো. মোবারক হোসেন আকাশ বলেন, ‘সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে আমার সঙ্গে সিরাজুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলে সে বাবু কে ফোন দেয়। বাবু কে ফোন দেওয়ার পর বাবু ডান হাত মিরাজুল চার-পাঁচজন লোক নিয়ে এসে সিরাজ,মিরাজুলসহ তাদের আরও দুই ছোট ভাই মিলে এ চারজন আমাকে মারধর শুরু করে। আমাকে তারা মারতে মারতে পাশে একটা ফুডের দোকানের পাশে নিয়ে চার-পাঁচজন মিলে মারধর করতে থাকে। এর কিছুক্ষনের মধ্যে বাবু'র এক থেকে দেড়শো লোকজন এসে জড়ো হয়ে আমাকে ঘিরে ধরে। ওই সময় বাবু এসে বলে এখানে কি হয় না হয় তোর এগুলা দরকার কি? তুই কি নেতা হয়ে গেছস? এগুলা সব যুবদল দেখবো।’

‎বাবু এসেই আমাকে বলতেছে তোর মামাকে ছাড়া তোরে যাইতে দিবো না। তোর মামা আসবে,বিচার করবে এরপর তোরে যাইতে দিমু। আমি কোন কথা না বলে স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক আহবায়ক বিল্লাল তালুকদার (মামা) কে ফোন করি। তিনি আমার মামা। মামা আসার পর বাবুর লোকজন হকিস্টিক দিয়ে পিছন থেকে আমারে আঘাত করে। আমার ওপর আঘাত করা দেখে মামা তাদেরকে ধরছে। এরপর দুইপক্ষ হাতাহাতি শুর হয়।

‎'ওই সময় বাবুর কাছে একটা ছুরি ছিলো আমরা কেউ বিষয়টা টের পাইনি। প্রথমে বাবু উল্টা পাল্টা যেভাবে পারতেছে সবাইকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতেছিলো। আমি তখন নিচে পড়ে যাই। তখন বাবুর হাত থেকে বাবুর ডান হাত মিরাজুল ছুরিটা নিয়েই মামার (বিল্লাল তালুকদারকে) বুকের ডানপাশে ছুরিকাঘাত করে। সাথে সাথে আমি মামাকে নিয়ে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাই। তারা সাথে সাথে আমাদেরকে ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে পাঠায়। ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে যাওয়ার পর ডাক্তার দেখে আমার মামাকে মৃত ঘোষণা করে। ডাক্তার দেখার পর বলে তার ফুসফুস চিদ্র হয়ে গেছে।'

‎এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাজাহার বলেন, রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সালিশকে কেন্দ্র করে বিল্লালকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকারীরা ঘটনার পর পর পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

‎একেএস/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর