দলের দুঃসময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় কারাবন্দি সন্তানদের জন্য লড়াই করা সংগ্রামী মা আম্বিয়া খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই সন্তানের মুক্তির জন্য আদালতের বারান্দায় দিন কাটানো ৭৫ বছর বয়সী এই মায়ের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন সরকারপ্রধান।
বিজ্ঞাপন
কয়েকদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমানের মা আম্বিয়া খাতুন। তার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক খোঁজ নিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হাসপাতালে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে যান। তিনি সেখানে আম্বিয়া খাতুনের চিকিৎসার অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ডা. বিটু চিকিৎসকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সংগ্রামী মায়ের চিকিৎসার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেন তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রনেতা আমান ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে আম্বিয়া খাতুনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
হাসপাতালে ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটুর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. রাশেদুল হাসান রিপন, ডা. শাহ মো. সামিউর রহমান, ডা. মো. মাহমুদ আলী বাবু এবং ডা. মো. হাফিজুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া মায়ের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার সেই দুই সন্তান ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান ও বড় ভাই মো. শহীদুল্লাহ মুসুল্লি।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বে আলোচিত এক পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান। এর আগে তাকে আটক করতে না পেরে তার বড় ভাই শহীদুল্লাহ মুসুল্লিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
কারাগারে ছাত্রনেতা আমানকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার ওই কঠিন সময়ে, লন্ডনে অবস্থানকালীন সময় থেকেই নিয়মিত আমানের মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে খোঁজ নিতেন তারেক রহমান। ওই সময়ে গণমাধ্যমে ‘দুই সন্তানের মুক্তির আশায় কোর্টের বারান্দায় বসে থাকেন ৭৫ বছরের আম্বিয়া খাতুন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পরও সেই সংগ্রামী মাকে ভুলে যাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিইউ/এমআর




