রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

আলোচনার কেন্দ্রে আসিফ-হাসনাত, ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘটনা আসলে কী?

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

Asif
এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাই বিপ্লবীদের গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ নিয়েছিলেন বলে সেখানকার প্রশাসক বক্তব্য দেওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

মুরাদনগর এবং দেবিদ্বার উপজেলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘অস্বাভাবিকভাবে’ জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। 


বিজ্ঞাপন


তবে এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির দুই নেতা। সে সময় অন্তর্র্বতী সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি এনসিপির মুখপাত্র। অন্যদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তারা দুজনেই জুলাই বিপ্লবে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন।

শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা এবং আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহও নিয়ে গেছে ১০ কোটি টাকা। তো এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা।’

রোববার (৩১ মে) জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, এনসিপির এই দুই নেতার উপজেলার জন্য বরাদ্দ আকারে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র দুইটি উপজেলার জন্য এমন অর্থ বরাদ্দ অস্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন তিনি।

Screenshot_2026-05-31_213857
কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. মোস্তাক মিয়া

মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা একটা অস্বাভাবিক বরাদ্দ। কারণ এডিপি থেকেই আনছে কিছু অংশ আর কিছু অংশ রাজস্ব তহবিলের। দুটি মিলেই পুরা টাকাটা ওদের এলাকার প্রকল্পের নামে নিয়েছে।’

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওনি এটা ক্লিয়ারলি রাজনৈতিক উদ্দেশে বলছেন। উনি তো আর কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সরকারের দায়িত্বশীল কেউ না। উনি বিএনপির নিয়োগকৃত একজন প্রশাসক।’

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলছেন, ‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। এসব অর্থ প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে, ব্যক্তি হিসাবে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান দলটির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া। তার দাবি, শুধুমাত্র দুইটি উপজেলার জন্য এমন বরাদ্দ অস্বাভাবিক। অন্যান্য উপজেলায় স্বাভাবিক যেমন: ১০ বা ২০ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘অবশ্যই অস্বাভাবিক বরাদ্দ, অন্যান্য উপজেলায় তো এভাবে দেয় নাই। হলে সব উপজেলায় কিছু কম-বেশি হতো, এরকম হতে পারতো। কিন্তু এটাতো একদম অস্বাভাবিক বরাদ্দ।’

তিনি বলেন, ‘আচ্ছা যাক, ওতো একজন উপদেষ্টা ছিল, সে কিভাবে আনছে, প্রভাব খাটাইছে কিন্তু আরেকজন তো উপদেষ্টা ছিল না, বা গভর্নমেন্টের কিছুতেই ছিল না। তো ওরা কিভাবে নিতে পারে এতো টাকার বরাদ্দ।’ এখানে ব্যক্তিগত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মাধ্যমে স্পেশাল বরাদ্দ নিয়ে ওর এলাকায় বরাদ্দ দিয়েছে, এটা তো এভাবে দিতে পারে না। একটা উপজেলায় এতো বরাদ্দ! আরেক উপজেলায় পাঁচ লাখ, ১০ লাখ। বিষয়টা আমি এই কথাটাই বুঝাইতে চাইছি। এ ধরনের বৈষম্য তো হতে পারে না। এরকম অস্বাভাবিক বরাদ্দ আর কোথাও হয় নাই।’

কোন খাতে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কিভাবে খরচ হয়েছে- সে বিষয়ে হিসাব আছে কি না জানতে চাইলে সেটি জেলা পরিষদে তার দফতরে রয়েছে বলে জানান মোস্তাক মিয়া। কোন প্রকল্পে কত টাকা খরচ হয়েছে- সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কী বলছেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ওনি (প্রশাসক) যে বলছেন ১৫ বা ১০ কোটি টাকা এটা আসলে না, অনেক বাড়িয়ে বলছেন উনি। দেবিদ্বারের জন্য পাঁচ কোটি এবং মুরাদনগরের জন্য পাঁচ বা ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’

যে সময় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সে সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ।

4
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

তিনি জানান, ‘স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা থাকার সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি বিশেষ বরাদ্দ খাত থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ- এই পাঁচ খাতের মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, এডিপির বরাদ্দকৃত অর্থ বেশ কিছু ছোট ছোট প্রকল্পের জন্য দেওয়া হয় এবং রাজস্ব বাজেট নয়, বরং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ তহবিল থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার প্রকল্পের কোন খাতে কত কোটি টাকা খরচ হয়েছে- সেগুলোর নথিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

আসিফ বলেন, ‘এ ধরনের মিথ্যা কথা, বানোয়াট কথা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যাচার ব্যবহার করছেন তারা।’

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ আনার পর প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে তিনি মোবাইলে যোগাযোগ করেছেন। সেসময় তিনি (প্রশাসক) বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেইজেও দিয়েছেন হাসনাত।

ফেসবুক পোস্টে তরুণ এই সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’

হাসনাত লিখেছেন, ‘তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।’

H
এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আরও লিখেছেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।’

কোন কোন খাতে তা ব্যয় করা হয়েছে, সেটির তালিকাও নিজের পোস্টের নিচে সংযুক্ত করে দিয়েছেন হাসনাত।

অন্যদিকে অডিওর বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী, কাটপিস করে প্রচার করেছে, কিন্তু ওই খানে অনেক কথাই ছিল। ওর সুবিধামত জায়গায়...অন্যায় করেছে স্যোশাল মিডিয়ায় দিয়ে, ওয়ান টু ওয়ান কথা হয়েছে, এটা তো দিতে পারে না।’

দুই উপজেলার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ঠিক কী ঘটেছিল?

কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যে সময়ে টাকা বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেসময় সেখানকার জেলা প্রশাসক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মো. আমিরুল কায়সার। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলেন।

এই কর্মকর্তা জানান, জেলা পরিষদের মাধ্যমে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, সেগুলো দুটি তহবিলের মাধ্যমে করা হয়। এর মধ্যে একটি রেভিনিউ বাজেট অর্থাৎ জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়ের বাজেট বা রাজস্ব তহবিল। আরেকটি সারাদেশের সকল জেলা পরিষদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ বা এডিপি তহবিল।

আমিরুল কায়সার জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পরে জেলা পরিষদ ভেঙে যাওয়ায় তখন জেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওই জেলা পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। 

ওই কমিটির সদস্যরা মাসিক একটি সভায় সকল উপজেলার সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রকল্প অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা পরিষদের ওই সভায় মুরাদনগর উপজেলার ২৪টি এবং দেবিদ্বার উপজেলার ৪২টি প্রকল্পে পাঁচ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

কুমিল্লার বর্তমান প্রশাসক ১০ বা ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি সঠিক নয় বলে দাবি করেন সে সময়কার প্রশাসক আমিরুল কায়সার।

তিনি বলেন, ‘এই ফিগারটা সম্ভবত ১০ বা ১৫ কোটি না, আমি এক্সেক্টলি বলতে পারবো না। তবে পাঁচ কোটি করে... এটা হলো বিশেষ এডিপি যেটা লোকাল গভর্নমেন্ট মিনিস্ট্রি জেলা পরিষদের মাধ্যমে ওই দুইটা উপজেলা ছাড়াও অন্য উপজেলাতে দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই দিয়েছে।’

মুরাদনগর, দেবিদ্বার ছাড়াও সদর উপজেলাতেও দুই অর্থবছরে পাঁচ কোটি টাকা করে এডিপির বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

10
কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার

২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কুমিল্লার সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে, তার মধ্যে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদ নগরে ৪৫৩ কোটি আর হাসনাত আব্দুল্লাহর উপজেলা দেবীদ্বারে ৩৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

আমিরুল কায়সার জানান, জেলা পরিষদের কমিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করার পর সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। পরে ইজিপি বা ইলেক্ট্রনিক গভর্নমেন্ট পারচেজের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। পরে ঠিকাদার প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যেখানে প্রয়োজন সে জেলায়, বছরের যেকোনো সময় বিশেষ থোক বরাদ্দ বা এডিপি দিতে পারে বলে জানান আমিরুল কায়সার। তবে জেলা পরিষদের নীতিমালা অনুযায়ী, কোথায় কোন প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা হবে- সুনির্দিষ্টভাবে সেটির হিসাব থাকতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পের একটি করে ফাইল জেলা পরিষদে থাকে বলে জানান তিনি।

অন্য উপজেলার চেয়ে শুধু ওই দুটি উপজেলাতেই কেন বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে আমিরুল কায়সার দাবি করেন, প্রায়োরিটি অনুযায়ী কুমিল্লার সব উপজেলাতেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর কুমিল্লা জেলা পরিষদে অন এন এরাউন্ড ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা করে রাজস্ব এবং এডিপি মিলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায়োরিটি অনুযায়ী আবেদন বাছাই করে ১৭টি উপজেলাতেই কুমিল্লাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার পরের তথ্যও ছবিসহ ফাইলে রাখা হয় বলে জানান কুমিল্লার সাবেক এই জেলা প্রশাসক।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর