ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে মধ্যযুগীয় বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি জ্ঞানপাপীর পরিচয়। এই বক্তব্য অপরাধ দমনে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার শামিল, তাই তিনি মন্ত্রীকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মতিঝিল থানা শাখার তৃণমূল দায়িত্বশীল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা কাইয়ূম এসব বলেন।
মতিঝিল থানা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রাসেলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, নগর দক্ষিণের প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা। এছাড়া থানা ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
মাওলানা কাইয়ূম ইসলাম শান্তি ও মানবতার একমাত্র ঠিকানা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইসলামকে যতটুকু অনুসরণ করেছে, তারা ততটুকু শান্তি ও কল্যাণ লাভ করেছে। ইসলামই একমাত্র আল্লাহপ্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং এর বিধি-বিধান সব যুগ ও সব মানুষের জন্য সার্বজনীন ও কল্যাণকর। ইসলামের বিধানকে মধ্যযুগীয় বলা ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞার শামিল এবং এটি জ্ঞানপাপীর পরিচায়ক।
ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব বলেন, ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে মধ্যযুগীয় বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। একইসঙ্গে এটি অপরাধ দমন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার শামিল।
বিজ্ঞাপন
মাওলানা কাইয়ূম বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশা মূলত দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন। নিপীড়ন, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিজ্ঞতা মানুষকে ইসলামী ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
সভায় ঢাকার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আল্লাহভীরু ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা জনগণ ও আল্লাহর কাছে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে, এমন ব্যক্তিকেই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।
মারুফ বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে জনগণের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক সমাজব্যবস্থার বিকল্প নেই।
এমআর/ক.ম




