‘জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম বরকতময় জায়গা। আমাদের দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ প্রতিষ্ঠার দুই মাসের মাথায় এখান থেকে আন্দোলন শুরু করে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ পুনর্বহালে সক্ষম হয়েছে। একই জায়গা থেকে আমরা কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের সংগ্রাম ঘোষণা করছি। ইনশাল্লাহ আমাদের এ সংগ্রামও সফল হবে।’
শুক্রবার (২২ মে) বাদ জুমা বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে আয়োজিত গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
বিজ্ঞাপন
খোমেনী বলেন, ২০২০ সালে ইসরায়েল হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বাংলাদেশে তাদের দালাল নিযুক্ত করে পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ কথাটি বাতিল করেছিল। বাংলাদেশ যেন অবৈধ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় সেই জন্য শেখ হাসিনার প্রশাসনকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোনো ইসলামিক দল রাজ পথে নামেনি। একটি কর্মসূচিও পালন করেনি।
‘কিন্তু ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ থেকে মুসলিম জাতীয়বাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ যাত্রা শুরু করেছিল। এর মাত্র দুই মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ বায়তুল মোকাররমে এসে আমরা ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আমরা বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দটি পাসপোর্টে পুনর্বহাল করার জন্য এক মাসের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছিলাম। এরপর টানা দুই মাস প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে করেছি। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের দাবি মানার ঘোষণা দেয়। বিএনপি সরকার সেই দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করছে।’বলেন খোমেনী।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, আজ আমরা ফের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে এসেছি দেশ ও জাতি পুনর্গঠনের ১১ দফা নিয়ে। ইনশাল্লাহ এই ১১ দফার আলোকে আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ ও ইসলাম বিরোধী বর্তমান সংবিধান পরিবর্তন করে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নতুন সংবিধানের দাবির বিষয়ে খোমেনী বলেন, বাংলাদেশের মূল সংকট হলো এটি অতীতে প্রায় ৬০০ বছর মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। তখন কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ চলেছে। হিন্দু-বৌদ্ধরা এখানে মুসলমানের ভাই হিসেবে সমমর্যাদা নিয়ে বসবাস করেছে। কোথাও সাম্প্রদায়িকতা হয়নি। সবাই ভালোভাবে সুখে শান্তিতে বেঁচেছিল। কিন্তু ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ বেনিয়ারা এই দেশ দখল করে নিয়ে রোমান-গ্রিক সেক্যুলার আইন চাপিয়ে দিয়ে ১৯০ বছর শাসন ও শোষণ করেছিল। ১৯৪৭ সালে তারা বিদায় নেওয়ার পর আশি বছর পার হতে চললেও সেসব ঔপনিবেশিক আইন বাতিল হয়নি। সেক্যুলারিজম পূর্ব ইসলামী সংবিধান ও আইন পুনর্বহাল হয়নি। এর ফলে দেশে সংকট থেকে বের হতে পারছে না। যদিও বারবার নানা মুক্তি আন্দোলন হচ্ছে, কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন না করায় কোনো আন্দোলনেই মুক্তি মিলছে না।
বিজ্ঞাপন
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা নিয়ে খোমেনী ইহসান বলেন, সারাদেশ মদ গাঁজা ইয়াবা আসক্ত হয়ে গেছে, দুর্নীতি চাঁদাবাজিতে ছেয়ে গেছে সেখানে আপনারা কীভাবে মনে করেন ছোট ছোট শিশুরা রক্ষা পাবে? ধর্ষণ হলে সবাই মিছিল সমাবেশ করছেন। কিন্তু ইসলাম শুধু ধর্ষণের পরে মিছিল মিটিং করার ধর্ম না। ইসলাম যেভাবে কণ্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া বন্ধ করেছিল সেভাবে ধর্ষণ বন্ধ করার ধর্ম। কাজেই কুরআনের কাছে ফিরে আসুন, ইসলামের কাছে ফিরে আসুন। ইসলাম ভিত্তিক সংবিধান রচনা করার জন্য লড়াইয়ে শামিল হোন। দেখবেন বাংলাদেশ একটি সুখী সমৃদ্ধ মদিনার মতো শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে।
কর্মসূচি উদ্বোধনের পর বায়তুল মোকাররম ও পুরানা পল্টন এলাকায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতাকর্মীরা পথচারী, পুলিশ ও দোকানদারেদের মাঝে ১১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও গালীব ইহসান, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম, তৌহিদ তপু ও মাহফুজুর রহমান, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান ও রাসেল শিকদার প্রমুখ।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের ১১ দফার মধ্যে রয়েছে-পিলখানা-শাপলা-জুলাই গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে; গণবিরোধী আরোপিত ফ্যাসিস্ট সংবিধান বাতিল করে জনগণের বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা ভিত্তিক জনগণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে; সব বৈষম্যপূর্ণ ঔপনিবেশিক ও স্বৈরতান্ত্রিক আইন বাতিল করে ইসলামী মূলনীতির আলোকে গণমুখী যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে; ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও কলেবর বৃদ্ধি করতে হবে; বৈষম্যহীন ইনসাফপূর্ণ সুদমুক্ত যাকাত ও ওশর ভিত্তিক হালাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; ব্রিটিশের বিদায় পরবর্তী মালিকানা যাচাই করে ভূমি সংস্কার করতে হবে; আধুনিক, উন্নত মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে; বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ, তাদের উন্নয়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; বিনামূল্যে চিকিৎসা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং কৃষক-শ্রমিক-প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সারাদেশে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-ধর্ষণের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান পরিচলনা করে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। -বিজ্ঞপ্তি
ক.ম/




