ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে তথ্য সামনে আসছে তা ভয়াবহ ও বিভীষিকাময়। এ ধরনের ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও বর্বরতার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা বিচারের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ইউনুস আহমদ বলেন, ‘মানুষের প্রতি মানুষ এতটা নির্মম হতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাচ্ছে না। নিহত রামিসার বাবার বক্তব্যেও সেই হতাশা উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই নাই, আপনারা বিচার করেন না।’
তিনি দাবি করেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে এবং এটি দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। বর্তমান আইনি কাঠামো শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯০টির বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৩১৭টি। এসব মামলার বড় অংশই ধর্ষণসংক্রান্ত।’
বিজ্ঞাপন
তার মতে, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে এসব মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রিতা, সাক্ষী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং আইনের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার কার্যকর হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের বলতে হচ্ছে, পল্লবীর রামিসার প্রকৃত খুনি এই ব্যর্থ আইন ও বিচারব্যবস্থা। তাই বিদ্যমান আইনের পরিবর্তে শরীয়াহ আইনকে বিকল্প হিসেবে প্রয়োগের দিকে রাষ্ট্রকে এগিয়ে যেতে হবে।’
এমআর/এমআই




