শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

৩১ দফার কথা বলে পুরনো বন্দোবস্তে ফিরেছে বিএনপি: মঞ্জু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

৩১ দফার কথা বলে পুরনো বন্দোবস্তে ফিরেছে বিএনপি: মঞ্জু
বক্তব্য দিচ্ছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বাস্তবে বিএনপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তেই ফিরে গেছে। তার দাবি, ঘোষিত সংস্কারের সঙ্গে মাঠের রাজনীতির বাস্তবতার কোনো মিল নেই; বরং চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংসতার পুরোনো সংস্কৃতিই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত দেশব্যাপী অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও জননিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল। এছাড়া দলটির সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন ও সহকারী প্রচার সম্পাদক রিপন মাহমুদ।

সমাবেশে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আগে প্রশাসন ছিল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে, এখন তা বিএনপির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আগে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা করা হতো, এখন জাতীয়তাবাদী স্লোগান তুলে হামলা করা হচ্ছে। জয় বাংলা থেকে জাতীয়তাবাদ—শুধু স্লোগান বদলেছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। কথা ছিল নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা তুলে মঞ্জু বলেন, ৫ আগস্টের পর সরকার কার্যত অনুপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়নি। বরং শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম, তবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পরিবেশে পৌঁছানোর পর নির্বাচন হোক—এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।


বিজ্ঞাপন


বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৩১ দফার কথা বলে বিএনপি আবার পুরনো বন্দোবস্তেই ফিরে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শুধু বিএনপিরই প্রায় ৬ হাজার নেতাকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এরপরও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি; বরং আরও বেড়েছে।

manzuসরকারের

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মঞ্জু বলেন, তিন মাসের সরকার ঋণ করেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। হামে ইতোমধ্যেই ৪০০–এর বেশি শিশুকে হারিয়েছি। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক জায়গায় নীরবে চাঁদাবাজি চলছে। এখন আর বহিষ্কারও হয় না, গ্রেপ্তারও হয় না। বাজার, থানা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও প্রভাবশালী মহলের অপতৎপরতা চলছে।

দুর্নীতির তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, কারা পুলিশে দুর্নীতি করছে, কারা সচিবালয়ে পোস্টিং বাণিজ্য করেছে—সব তথ্য আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ করবো এবং দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবো।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারসহ বিভিন্ন খাতে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, কোরবানির ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দেশের মানুষ সরকারের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখতে চায়। তিনি ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশে এবি পার্টির শ্রমিক, যুব, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর