বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

শাপলা গণহত্যা ছিল ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা: সাদ্দাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

S
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দিচ্ছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। ছবি- ঢাকা মেইল

ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত নীলনকশার অংশ হিসেবেই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। 

এ ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ, প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরা এবং দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাদ্দাম। 

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় কর্মসূচি শুরু হয়। মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানববন্ধনের সূচনা হয়।

শিবির সভাপতি বলেন, ‘তৎকালীন সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে শাপলা চত্বরে অভিযান চালায়। ওই ঘটনার মাধ্যমে আলেম-ওলামাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।’

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পতন হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সাদ্দাম অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং রিমান্ডের নামে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, যা ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।’

শিবির সভাপতি বলেন, শুধু শাপলা চত্বরেই নয়, বরং আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও হাটহাজারীতে গুলি চালিয়ে আরও অন্তত ৩৪ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

সাদ্দাম বলেন, ‘আলেম-ওলামাদের দমিয়ে রাখতে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য মামলা দেওয়া হয়, যার কারণে অনেক নিরপরাধ মানুষকে বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে।’ 

তিনি এ সময় এসব মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ মে রাতের ঘটনার তথ্য গোপন করতে কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

তিনি বর্তমান সরকারের কাছে শাপলা চত্বরের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত লাশের সংখ্যা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা এ ঘটনায় নির্দেশদাতার ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার পরদিনই বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তারা রাজপথে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলেন। তাই শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার, শ্বেতপত্র প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

টিএই/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর