জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন তার করা রিট পিটিশনে গেজেট প্রকাশ বা শপথ গ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি না জানিয়ে কেবল রুল জারির আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্ট ডিভিশন আদেশের জন্য বিষয়টি আগামীকাল বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে শারমিন এ কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
ফেসবুক পোস্টে মনিরা শারমিন বলেন, আজ (মঙ্গলবার) আমার রিটের শুনানি ছিল হাইকোর্টে। রিট পিটিশনটি হাইকোর্ট ডিভিশন আগামীকাল আদেশের জন্য রেখেছেন। আমার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, মোহাম্মদ হোসেইন লিপু, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
মনিরা জানান, যেহেতু নুসরাত তাবাসসুমের গেজেটভুক্ত হওয়া নিয়ে বা তার শপথ গ্রহণের বিরুদ্ধে আমার কোনো আপত্তি নাই, তাই আমার পক্ষ থেকে আমার আইনজীবী কোনো নিষেধাজ্ঞা চাননি, শুধু রুল চেয়েছেন।
‘মজার বিষয় হলো, গতকাল থেকে দেখছি স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল এই বিষয় নিয়ে অত্যন্ত কনসার্ন যাতে আইনের কোনো ভুল ব্যাখ্যা না হয়, তাই মনিরা শারমিনের শুনানিতে উনি উপস্থিত হয়েছেন। গতকালও এবং আজও। ভালো লেগেছে উনার উৎকন্ঠা।’ বলেন মনিরা।
এনসিপি নেত্রী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে আমার রিটের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। উনার বক্তব্য হলো, যেহেতু একজন প্রার্থী গেজেটেড হয়েছেন, তাহলে এই রুল দিয়ে মনিরা শারমিন কোনো প্রতিকার পাবেন না, এটা শুধু একাডেমিক এক্সারসাইজ হবে। মানে লাভ কী?
বিজ্ঞাপন
মনিরা বলেন, ‘জনাব অ্যাটর্নি জেনারেল, আপনারা লাভ ছাড়া কিছু করেন না আমি জানি। আমার লাভ হলো, এই আইনটা স্পষ্ট হলে আমলা না হয়েও বা ক্ষমতাশালী না হয়েও তাদের দায় কারো নিতে হবে না, তাদের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না। এই আইন বৈষম্যমূলক। পৃথিবীর কোথাও এই ধরনের বিষয়ে এরকম ঢালাওভাবে বাধ্যবাধকতা নাই।’
‘শিক্ষিত মানুষ রাজনীতিতে আসতে হবে। একজন সাবেক সরকারি স্কুলের শিক্ষক যদি মনে করেন, তিনি নির্বাচন করবেন, একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা যদি চান নির্বাচন করবেন, তার সেই সুযোগ পাওয়া উচিত, ৩ বছরের বাধ্যবাধকতা তার জন্য আরপিত হওয়া উচিত না। আপনারা আমলাদের আটকান, আইজিপিদের আটকান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে নির্বাচন করা থেকে আটকান। কিন্তু এভাবে ঢালাওভাবে সবাইকে এই আইনের ভেতরে ফেলা অনুচিত। একাডেমিক এক্সারসাইজ হইলেও আমি এইটার প্রতিকার চাই। যাই হোক, হাইকোর্টে গিয়ে নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হইছে।’ বলেন মনিরা।
এনসিপি নেত্রী বলেন, নুসরাতের জন্য শুভকামনা। আমার বিশ্বাস, তার মাধ্যমে এনসিপির সংসদীয় কন্ঠস্বর আরও জোরালো হবে, আরও শক্ত হবে।
ফেসবুক পোস্টে মনিরা বলেন, হাইকোর্ট থেকে কিছুদূর হেঁটে মেট্রোতে উঠলাম বাসায় ফিরব। দুইজন আপু গল্প করতেছেন পাশেই। "মনিরা শারমিন সংসদে যেতে পারবে না! ধুর! মনটাই খারাপ হয়ে গেল।" আমি হাসলাম। মাস্ক পরার সুবিধা এটাই, আপনি সবাইকে দেখবেন, কেউ আপনাকে চিনবে না। মন খারাপ করবেন না। একজন রাজনীতিবিদের জীবনে কোনো ঘটনাই সামান্য না, বিরাট ঘটনা। এই ঘটনাগুলি আমাদের শক্তিশালী করে তোলে। সংসদের বাইরে আমার এনসিপির পক্ষে লড়াই চলমান থাকবে।
এমআর/ক.ম




