দেশে গত এপ্রিল মাসে অন্তত ৪০টি সহিংস ঘটনায় বিএনপির অন্তঃকোন্দলে চারজন নিহত এবং আহত হয়েছে ২৪৭ জন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের ১২টি ঘটনায় ১১৩ জন আহত হয়েছে। এ মাসে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং আহত হয়েছে ৫৩৩ জন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) মঙ্গলবার (৫ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএস এর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয় বলে জানায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’র বিবরণ দিয়ে বলা হয়, এপ্রিল মাসে কমপক্ষে ৯৮টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৩৩ জন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও হামলা, দলীয় ও অন্তকোন্দল, ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং দেশব্যাপী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিহতের সংখ্যা মার্চ মাসের তুলনায় কমেছে। গত মার্চ মাসে ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৯১২ জন।
এপ্রিল মাসে সহিংসতার অন্তত ৯৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪০টি ঘটনায় নিহত চারজন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৪৭ জন। ১২টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১৩ জন, ১৩টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৮ জন। তিনটি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২৬ জন, ২১টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৪৬ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) অন্তঃকোন্দলে একটি ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে ছয়টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩ জন । এছাড়া দুটি ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের ইউপিডিএফের দুজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
এসব ঘটনার মধ্যে ক্যাম্পাস কেন্দ্রীক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ১৫টি ঘটনায় আহত হয়েছে ৭৭জন। এর মধ্যে ছাত্রদলের অন্তর্কোন্দলে তিনটি ঘটনায় ১৬ জন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাঁচটি ঘটনায় ৫৮ জন, ছাত্রদল, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয়টি ঘটনায় ১৭ জন আহত হয়েছে।
এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৩টি ঘটনায় কমপক্ষে ৩২ জন আহত এবং ছয়জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপির তিনজন, আওয়ামী লীগের দুজন, জামায়াতের একজন। ৩৭ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রীক ২৬টি ঘটনায় অন্তত ৬৭টি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
ক.ম/




