বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ‘দলদাস’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ার করে দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বললেন, তাদের (ইসি) পরিণতি আগের কমিশনের থেকেও ভয়ংকর হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন সারজিস।
বিজ্ঞাপন
ওই পোস্টে এনসিপি নেতা তার দলের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন স্থগিত হওয়া এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়ার কঠোর সমালোচনাও করেছেন।
সারজিস লিখেছেন, ‘জনগণের ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা ঋণখেলাপিদেরকে জনাব তারেক রহমান মনোনয়ন দেয়। সেই ব্যাংক লুটেরাদেরকে এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করতে দিয়েছে এবং তারা এখন ব্যাংক লুটেরাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদেও আছে।’
তিনি লিখেছেন, ‘তখন এই নির্বাচন কমিশন তাদেরকে নিয়ম দেখাতে পারেনি। কারণ তাদের সেই মেরুদণ্ডটা নাই। ক্ষমতা আর দলের কাছে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে বেঁচে দিয়ে তারা এখনো নির্বাচন কমিশনে পদ ধরে রেখেছে। প্রতিনিয়ত তাদের দলীয় প্রভুদেরকে সন্তুষ্ট করে যাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
এনসিপি নেতার দাবি, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন থেকে হয় না, হয় গুলশান থেকে।’
সারজিস লিখেছেন, ‘মনিরা শারমিন একসময় সরকারি চাকরি করতো আর নুসরাত তাবাসসুম কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে ফরম জমা দিয়েছে বলে তাদের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন! অথচ সর্বশেষ দুটি আসনের উপনির্বাচনে যখন দিনে দুপুরে ভোট চুরি হলো, ব্যালটে সিল মারা হলো, ভোটকেন্দ্র দখল করা হলো, তখন এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তার অন্যান্য কমিশনাররা মুখে কুলুপ এঁটে ছিল।’
সবশেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই জুলাই যোদ্ধা লিখেছেন, ‘এরা যেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গলায় জুতার মালা পরা ছবিটা তাদের বেডরুমে টাঙিয়ে রাখে। এর চেয়েও ভয়ংকর পরিণতি এই দলদাসদের হবে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট। সে লক্ষ্যে সরকারি দল বিএনপি এবং জামায়াত জোট ইতোমধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় জামায়াত জোটের অন্যতম শরিক দল এনসিপির প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন স্থগিত এবং নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় একই দলের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
নিজের দেওয়া পোস্টে তা নিয়েই ক্ষোভ ঝেড়েছেন এনসিপি নেতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম। মাত্র সোয়া ঘণ্টায় পোস্টটিতে ১১ হাজারের বেশি লাইক এবং প্রায় দেড় হাজার মন্তব্য জমা পড়েছে।
এএইচ




