বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

Gonosanghoti
‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানি নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি: ঢাকা মেইল

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানি নীতি প্রণয়নে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও লুণ্ঠনমূলক কাঠামোর ফলাফল।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানি নীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষে নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


আবুল হাসান রুবেল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সংকটকে আরও তীব্র করেছে, তবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের মূল সমস্যা হলো দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা। তার মতে, জ্বালানি খাতকে পরিকল্পিতভাবে আমদানি নির্ভর কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সব ধরনের জ্বালানিকে একভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা নীতিগতভাবে সঠিক নয়। ডিজেল ও কেরোসিন সরাসরি কৃষি, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেন তুলনামূলকভাবে সীমিত ও উচ্চ আয়ের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তাই সেখানে ভিন্ন নীতি প্রয়োজন। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে খাতভিত্তিক ব্যবহার, জাতীয় উৎপাদনে ভূমিকা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। গড়ভাবে সব জ্বালানির দাম বাড়ানো কোনোভাবেই জনবান্ধব নীতি হতে পারে না।

আবুল হাসান রুবেল আরও বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ না করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করার কারণে এলএনজি, তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং সেই ব্যয়ের চাপ জনগণের ওপর পড়ছে। জ্বালানি খাতে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে মুনাফা কেন্দ্রিক করে তোলা হয়েছে, যা একটি লুণ্ঠনমূলক কাঠামো তৈরি করেছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার না হওয়ায় একই ধরনের সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জ্বালানির ন্যায্য ও খাতভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ, অপচয় রোধ এবং অকার্যকর বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার আহ্বান জানান। দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রের গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের দিকেও অগ্রসর হতে হবে।

আবুল হাসান রুবেল বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু একটি খাতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কৃষি, শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত জনজীবনের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই নেওয়া উচিত। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মজুতদারি ও দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। তাই প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর