সরকার জ্বালানির দাম বাড়াবে না বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত রাতারাতি তেল ও এলপিজির দাম ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বাড়ানো হয়েছে বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দ্রুত দাম কমিয়ে মানুষের স্বস্তি ফেরানো প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশে অংশ নিয়ে আখতার এসব বলেন।
বিজ্ঞাপন
আখতার হোসেন বলেন, সরকার আগে জানিয়েছিল জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে যে পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অযৌক্তিক এবং এত বেশি বাড়ানো উচিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি তেলের প্রসঙ্গে আখতার বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এতে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকটেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ কী—তা স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন।
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, হঠাৎ করে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এতে গৃহস্থালি রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ছোট উৎপাদন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আখতার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশীয় সমস্যাগুলো—বিশেষ করে মজুদদারি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি—চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিজ্ঞাপন
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, জ্বালানি তেল ও এলপিজিসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে, যাতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।
টিএই/ক.ম




