শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জ্বালানি সংকট নিয়ে লুকোচুরির কী আছে: সরকারকে জামায়াত আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জ্বালানি সংকট নিয়ে লুকোচুরির কী আছে: সরকারকে জামায়াত আমির
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ঢাকা মেইল

জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে সরকারের তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন—সংকট নিয়ে লুকোচুরির কী আছে। তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি গোপন না করে খোলামেলা সত্য তুলে ধরলেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি গাড়িকে একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্পভেদে এ পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পাম্প ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন তিন গাড়ি তেল সরবরাহ পেত, এখন সংকটের কারণে তা কমে এক গাড়িতে নেমে এসেছে। এই পরিমাণ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি তেল বিক্রির কথা বলা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয় সংসদকে পবিত্র ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান বলা হলেও সেখানে দাঁড়িয়ে যদি সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করা হয়, তাহলে তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সংসদে তুলে ধরবেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতা যাচাই করেই কথা বলছেন, কোনো অনুমাননির্ভর বক্তব্য নয়। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও তৈরি হয়েছে, তবে এ নিয়ে তথ্য গোপন করার কোনো কারণ নেই। সবাইকে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হলে বাস্তবতা স্বীকার করা প্রয়োজন।


বিজ্ঞাপন


তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংকট ধামাচাপা দিলে কৃষক কীভাবে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে। এ সময় মোটরসাইকেলভিত্তিক আয়ের ওপর নির্ভরশীলদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, আগে যেখানে দৈনিক দেড় হাজার টাকা আয় হতো, এখন তা কমে ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে এসেছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি চাঁদাবাজির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বেশির ভাগ হাসপাতালে আইসিইউর বাস্তব অস্তিত্ব নেই: জামায়াত আমির

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি গাজীপুরের মাওনায় এক কিশোরী অপহরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এবং দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে দেশবাসীই চূড়ান্ত বিচার করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিএই/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর