সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপির ইশতেহার কত দিনে বাস্তবায়ন, জানতে চান ফয়জুল করীম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপির ইশতেহার কত দিনে বাস্তবায়ন, জানতে চান ফয়জুল করিম
সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা। ছবি: ঢাকা মেইল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, সরকারকে বলতে চাই, আপনারা যে ইশতেহার দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে। সেই ইশতেহার কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবেন, তা জানতে চাই। বাস্তবায়ন না হলে তাওহীদী জনতা তা বাস্তবায়ন করবে।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের আয়োজনে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, ধর্মীয় শিক্ষক শব্দটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে, তা ভাবার বিষয়। ধর্মীয় শিক্ষক ও ইসলামি শিক্ষক এক নয়। হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষক নিয়োগ নেবে। কোমলমতি শিশুদের ধর্মচর্চার জন্য আলেম-ওলামাদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, একজন কওমি মাদরাসার আলেম যে পরিমাণ পড়াশোনা করেন, সাধারণ শিক্ষায় ১৪টি ডক্টরেট করলেও ততটা হয় না। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, ১২ ঘণ্টা পড়া তাদের জন্য স্বাভাবিক।

সভায় ইসলামী আলোচক মাওলানা লুৎফর রহমান ফরাজি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কাজ হতে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন প্রাথমিক পর্যায়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ইশতেহারে ছিল না। মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা উচিত।


বিজ্ঞাপন


শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। কওমি আলেমদের কীভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানান তিনি।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে শিশুরা ধর্মীয় পরিবেশে বড় হতে পারবে না। আগে প্রাথমিক স্তরে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা ছিল, পরে তা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা করা হয় এবং সর্বশেষ ধর্মীয় শিক্ষা-সংক্রান্ত সিলেবাস বাতিল করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। শিক্ষাগত দিক থেকে তারা এগিয়ে। নিজেদের দুর্বলতা দূর করে সরকারকে এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে কওমি আলেমদের অগ্রাধিকার দাবি

বিশিষ্ট আলোচক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, কওমি শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এই ধারার শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতেও দক্ষ এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছে।

তিনি বলেন, শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে কওমি মাদরাসা এক লাখ জনবল সরবরাহ করতে পারবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে আলেমদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবিতে আগামী ২০ এপ্রিল জেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাতে হওয়া বিস্ময়কর। শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা পাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। আওয়ামী লীগ দেশের পরিবেশ নষ্ট করে গেছে।

জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল দ্বীনিয়ার মহাসচিব মুফতী মোহাম্মদ আলী, বেফাকুল মাদারিসির আরাবিয়া'র সাবেক পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি আবু ইউসুফ, রামপুরা জামিয়া কারীমিয়ার মুহাদ্দিস মুফতী হেমায়েতুল্লাহ, ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী লুৎফর রহমান ফরায়েজী, জাতীয় নাগরিক পার্টির সরওয়ার তুষার, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স (এনসিপি) এর আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সানাউল্লাহ খান।

এসএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর