শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নতুন ফ্যাসিবাদের পথে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

Dr. Shafiqur rahman
সংসদে সাংবাদিকদের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (ফাইল ছবি)

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করছে, যা কার্যত আরেকটি ফ্যাসিবাদ এবং ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার শামিল। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের পতন হলেও তাদের অনুসৃত দমনমূলক নীতিগুলো এখনো বিদ্যমান। নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা আবারও রুখে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির এসব বলেন। এর আগে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত কিছু বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে।


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা সুষ্পষ্টভাবে জনগণের অধিকার হরণ করে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে চাইলে সংসদে আমাদের কথা বলার সুযোগ সীমিত করা হয়। বিরোধী দলীয় সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কোনো সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছেন। স্পিকারের এই ধরনের ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী এবং এটি বিরোধী দলের কণ্ঠরোধের চেষ্টা।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিক বলেন, আমরা বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন দেখতে চাই। কিন্তু সরকার এমন সব বিল পাস করছে যার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগ নিয়ে যে নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ ছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে গেছে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করল— হাসিনা খারাপ হলেও হাসিনার নীতি তাদের কাছে ভালো। এটি বিচার বিভাগের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ এবং এর ফলে অতীতে যেভাবে বিচারপতি খায়রুল হক বা মানিকের মতো দলীয় বিচারপতিদের জন্ম হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

স্থানীয় সরকারের জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সম্পর্কিত বিলগুলোর কড়া সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে বেপরোয়াভাবে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে পরিষ্কার বলেছিল যে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক বসানো যাবে না। কিন্তু সরকার কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এদিন অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘১৯৯৪ সালে মাগুরায় যে কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছিল, আজ বগুড়া ও শেরপুরে একই ধরনের 'স্টাইল' দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের একজন কর্মীকে হত্যার পর আজ আরেকজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই খুনিদের বিচার দাবি করছি।’


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি। আমরা সংসদে যাবো এবং জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলবো। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন পাস হয়, তবে আমাদের কণ্ঠ আবারো গর্জন করে উঠবে। জনগণ এর আগে ফ্যাসিবাদকে রুখে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা বাকশাল কায়েম করতে চায়, তবে ইনশাআল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারো তা রুখে দেওয়া হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

টিএই/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর