যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে অন্যায্য ও একপাক্ষিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দলটির নেতারা এ কথা বলেন।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ির মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করায় জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সভাপতি ও দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সূচনা বক্তব্যে বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ, জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির বাধ্যবাধকতায় ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত রাখার ইঙ্গিতও এতে রয়েছে, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশকে শুল্ক কমানো, অশুল্ক বাধা অপসারণ, শ্রম আইন সংশোধনসহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমপরিমাণ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। বরং দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও দিতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সভায় বলা হয়, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর অধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বাণিজ্যের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি বা জ্বালানি সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুক্তির ৬০ দিনের নোটিশে বাতিলের সুযোগ রয়েছে, তা বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও, যে কোনো চুক্তি হতে হবে পারস্পরিক সুবিধা, ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনা ও চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

