সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সংসদ মানুক আর না মানুক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে ছাড়ব: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সংসদ মানুক আর না মানুক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদ নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলাম, হ্যাঁ এর পক্ষে আছি। আমরা জনগণের সুপ্রিম উইলে সম্মান দেখিয়েছি, দেখিয়ে যাব। এই সংসদ মানুক আর না মানুক গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব, আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’


বিজ্ঞাপন


সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটা দেশ ও জাতি গঠন করতে হলে আগে একটা দলের ভেতরেই ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, যাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের হাতে নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয়, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। তারা ন্যায় ও ইনসাফ জাতিকে উপহার দিতে পারবে না।

‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। চব্বিশে জনগণ ঠিকই রায় দিয়েছে। হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন রায় যদি আপনারা পেয়েই থাকেন তাহলে সরকার গঠন করতে পারলেন না কেন। আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে। ডাকাতি করা হয়েছে। জনগণকে অপমান করা হয়েছে। এবং ইতোমধ্যে তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘হ্যাঁ ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু কপাল যখন মন্দ হয় তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছো। এবার আসলে ঠিকই তোমার লেজ, তোমার পা, তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।’


বিজ্ঞাপন


জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবনে সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও সংসদে উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই দাবি আদায় করা হয়েছিল। এবারও সংসদে ইতিবাচক বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান চাওয়া হলেও তা না হওয়ায় জনগণের কাছেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের ফলে সৃষ্ট ভোগান্তির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই সংকট বাড়ছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনেও পড়তে পারে, যা খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াবে।’

শিক্ষাখাতে জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে। শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, এর আগে নয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করব না।’

জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

এম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর