রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গণভোটের রায় না মানলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

গণভোটের রায় না মানলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টি। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন সংরক্ষণ না হওয়ায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা রক্ষা করা না হলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।


বিজ্ঞাপন


আজ রোববার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারসংক্রান্ত জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান সরকারের আচরণে স্বৈরাচারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই তাদের অবৈধ সরকার হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অনুগত প্রশাসক বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে সংবিধানবিরোধী।

ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৮ থেকে ১৯টি সংস্থার মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল, যার ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার এ ক্ষমতা কমিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করে এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কার বাতিল করে আবারও একাধিক সংস্থার হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, শুরু থেকেই তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন, কিন্তু সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থাকলেও গণভোট ইস্যুতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

এএইচ/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর