রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি অপসারণে নির্বাহী ক্ষমতা সীমিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

IA
ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে—এমন অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, এসব অধ্যাদেশ জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


রোববার (৫ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের জারি করা কিছু অধ্যাদেশ স্বাভাবিক সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করার জন্য অনুমোদন করা হচ্ছে, আবার স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপের লক্ষ্য নিয়ে আনা কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনস্বার্থের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকারের অনেক জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে চলে যান। ফলে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যার মাধ্যমে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।

উল্লেখিত অধ্যাদেশগুলো হলো—

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪;
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪;
জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪;
এবং উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪।


বিজ্ঞাপন


এসব অধ্যাদেশে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ও ‘জনস্বার্থে’ জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ রাখা হলেও এ দুটি বিষয়ের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন গাজী আতাউর রহমান  ফলে নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি প্রশাসক নিয়োগসহ অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা এসব অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়েও স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন হবে এবং জনরায় উপেক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গণরায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা থেকে সরে এসে স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। 

এমআর/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর