শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দ্বিচারিতার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না, সরকারকে সাদিক কায়েম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

দ্বিচারিতার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না, সরকারকে সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, প্রতিশ্রুতি ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া থেকে বিএনপি সরকার সরে যাচ্ছে। গণভোটে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো এখন দ্বিচারিতার আশ্রয় নিচ্ছে। দ্বিচারিতার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। 
 
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাদিক কায়েম এসব বলেন।
 
সাদিক কায়েম বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা নিপীড়ন, গুম-খুন, অবাধ নির্বাচনের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
 
ডাকসু ভিপি বলেন, ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক কমিশন গঠন করা হয় এবং পরে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। এই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজন করা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দেয়। এটি জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট হলেও বর্তমানে সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অনীহা দেখা যাচ্ছে।

সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, যেসব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশনে অংশ নিয়ে সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল, তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। একদিকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবে তা অস্বীকার করা হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
 
এই ছাত্রনেতা বলেন, সাধারণ মানুষ, এমনকি গ্রামের কৃষকরাও গণভোটের বিষয়বস্তু বুঝেছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশ এখন সেই বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে। 


বিজ্ঞাপন


বিএনপি জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে বা বাস্তবতা আড়াল করে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, অহংকার ও দ্বিচারিতার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না এবং জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে, তারা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে। 

এএইচ/ক.ম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর