সংবিধান নিয়ে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা জাতির জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, বারবার সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা ও ব্যবহার করার প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করছে এবং জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিশির মনির এসব বলেন।
বিজ্ঞাপন
শিশির মনির বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের পর থেকেই বিভিন্ন সময় তা কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, যা কখনোই স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয়। যখন যেভাবে সুবিধা হয়েছে, তখন সেভাবেই সংবিধানকে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই আইনজীবী বলেন, সংবিধান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে সবকিছু সংবিধানের ভেতরে, আবার কখনো বলা হচ্ছে সংবিধানের এক চুলও নড়ানো যাবে না। এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রমাণ করে, সংবিধানকে একটি স্থির নীতি হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ঐকমত্য কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সংবিধান সংস্কারের আলোচনা হয়েছে। সেখানে অনেকেই সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।
গণভোট প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের প্রস্তাব দেয় এবং পরে সেই গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করে, তখন তা সরাসরি জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের সামিল। জনগণ যখন একটি বিষয়ে স্পষ্ট মত দেয়, তখন সেটিকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিজ্ঞাপন
‘সংবিধানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের দ্বিচারিতা অব্যাহত থাকলে তা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের অবস্থানে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো।’ বলেন শিশির।
এএইচ/ক.ম

