বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জনগণের ম্যান্ডেট মানতে গড়িমসি করছে বিএনপি: শিবির সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জনগণের ম্যান্ডেট মানতে গড়িমসি করছে বিএনপি: শিবির সভাপতি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণভোটে প্রকাশিত জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, গণভোটের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে অনীহা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


প্রবন্ধে শিবির সভাপতি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি জনগণের সম্মতি, অংশগ্রহণ এবং সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হয়, যখন জনগণের ইচ্ছাকে আইনি ও সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সেই বাস্তবতারই শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য নিশ্চিত থাকবে।

সেমিনারে জানানো হয়, এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে মত দেন।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক সমর্থন নয়; বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। জনগণের এই প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


শিবির সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর অজুহাত দেখিয়ে গণভোটের রায় এড়িয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং গণভোটে প্রকাশিত সেই ইচ্ছা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, গণভোটে বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ জুলাই সনদকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুমোদন করেছে। ফলে এটি খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়ন বা পুনর্ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট খর্ব করার শামিল।

সেমিনারে সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়েও সমালোচনা করা হয়। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে যারা গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছেন, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার উদাহরণ। বর্তমান আইনমন্ত্রী অতীতে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে গণভোট ও বাস্তবায়ন আদেশের পক্ষে মত দিলেও এখন তা সংবিধানবহির্ভূত বলছেন। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সংসদীয় প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ শিশির মনির, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের জিএস মাজহারুল ইসলাম।

এএইচ/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর