শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নখের কালি না শুকাতেই জুলাই সনদ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে: সংসদে ড. মাসুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

নখের কালি না শুকাতেই জুলাই সনদ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে: সংসদে ড. মাসুদ
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত

ভোটের সময় দেওয়া নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই জুলাই সনদ ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে ৫১% ভোট ফ্যামিলি কার্ডের পক্ষে পড়েছে, আর ৭০% ভোট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ৫১%-কে গুরুত্ব দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে বিগত ১৭ বছরের উন্নয়নের কথা বলে কি জনগণকে মূল জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় শফিকুল ইসলাম মাসুদ এসব মন্তব্য করেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধানের সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।


বিজ্ঞাপন


সংবিধান সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরতে একটি গল্প দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন ড. মাসুদ। তিনি বলেন, একবার রাজা তার উজিরকে কিছু কাজ দেন। উজির অনুরোধ করেন, কাজগুলো কোনটা কখন গুরুত্বপূর্ণ, তা একটি তালিকায় উল্লেখ করলে ভালো হয়। তালিকা দেওয়া হয়, এবং উজির সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করেন। হঠাৎ রাজা শিকারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘোড়ায় উঠতে গিয়ে পা রেকাবে আটকে যায়। উজির বারবার ডাকলেও পা মুক্ত করে না, কারণ সে খুঁজছে এমন কোনো বিধান আছে কি না। শেষ পর্যন্ত রাজার পা বের করা সম্ভব হয়নি।

ড. মাসুদ বলেন, ঠিক আজকের সংসদও এই গল্পের মতো মনে হয়। বিগত ১৭ বছরের উন্নয়নের কথা বলে আমাদের নির্বাচন ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নখের কালি শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে আবার জুলাই সনদ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি বিব্রত হই যে আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কি লিখেছে তা জানে না। সেদিন তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে। আমরা সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের দিকে যাচ্ছি। এ সংশোধনের জন্য ছাত্র-যুবকরা কাজ করেনি। এমেন্ডমেন্টের জন্য শেখ হাসিনাও বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে। তখন ছাত্র-জনতা সংস্কারের পক্ষে ছিল।

আরও পড়ুন: গণভোট উপেক্ষা করলে দেশে আবার অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে: শফিকুল ইসলাম


বিজ্ঞাপন


ড. মাসুদ বলেন, আমি বাংলা সাহিত্যে অনার্স করেছি। বাংলার সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানও পড়েছি। সেখানে একটি বাক্য আছে— নেসেসিটি নৌজ নো ল’জ। আজ আমরা নেসেসিটিটাকে সংবিধানের ধারাবাহিকতায় আটকে ফেলেছি। লাইন, দাঁড়ি-কমা, সেমিকোলন খুঁজছি। সংস্কারের প্রস্তাব এখানে উত্থাপন করা হয়েছে, যা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে করা হওয়ার কথা ছিল। আমরা খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডে গুরুত্ব দিয়েছি। অথচ সংস্কারের জন্য কেন নজর দিতে পারিনি?

তিনি বলেন, ৫১% ভোট ফ্যামিলি কার্ডের পক্ষে পড়েছে, আর ৭০% ভোট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। তাহলে কি ৫১%-কে গুরুত্ব দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে ১৭ বছরের উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে আবার অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা বলি, সবাই মিলে বাংলাদেশ। কিন্তু ১১টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে, জেলা পরিষদে ৪২টি প্রশাসক বদল হয়েছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আজ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে সরকার পেয়েছি, কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে প্রশাসকরা বদল করা হয়েছে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হয়েছে। অবৈধ কাজের জন্য যারা সহযোগিতা ও প্ররোচনা দিয়েছেন, তাদের আগে আইনের আওতায় আনা উচিত।

টিএই/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর