শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

৫৫ বছর পরেও মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি: শিবির সেক্রেটারি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

৫৫ বছর পরেও মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি: শিবির সেক্রেটারি

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও বাংলাদেশের মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীতে আয়োজিত এক র‍্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিবির সেক্রেটারি বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার আজ ৫৫ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এত বছর পরেও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। বারবার শাসকগোষ্ঠী এই স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে সকাল ১০টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। মিছিলটি পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও মৎসভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহীসহ কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। র‍্যালিতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিলেও সরকার তা উপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২০টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সংবিধানের ভিত্তি। তাই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশ বাতিলের চক্রান্ত চলছে, যা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী অতীতে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও একটি মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি এবং তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রাপ্য শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বাড়ছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা দেশের এই ক্রান্তিকালে ছাত্রসমাজকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে র‍্যালি শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

টিএই/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর