শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘সরকারি হাসপাতালে সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘সরকারি হাসপাতালে সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে যায়’
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানুল্লাহ আমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিবেশে সুস্থ মানুষ কিছুক্ষণ থাকলে অসুস্থ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানুল্লাহ আমান।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র আমাকে প্রচণ্ড পীড়া দেয়। আমি প্রায়শই সহযোদ্ধা-কর্মী, পরিচিত স্বজন যে কারো অসুস্থতার কথা শুনলে হাসপাতালে ছুটে যাই। যতবার হাসপাতালে যাই বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ দেখলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়।’

আরও পড়ুন: রমজান শুরুর অস্থিরতা কাটিয়ে বাজারে স্বস্তি

তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিবেশ দেখলে মনে হয় সুস্থ মানুষ কিছুক্ষণ থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে। এখানে আমি শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দোষ দিচ্ছি না জনবিস্ফোরণের এই দেশে আসন সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা যে অনেক বেশি সেটাতো দৃশ্যমান কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের অনেক সরকারি হাসপাতালে ঢুকলেই সিম্পলি বমি এসে যায় গন্ধে! এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান গণমানুষের সরকারকে অবশ্যই আশু পদক্ষেপ নিতে হবে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য এবং সেবার বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশের জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ, জনবল সংকট হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরি। 

এই বিষয় সরকারি- বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা কাটাতে হবে।’

আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘একটা বিষয় ভেবেও অবাক হই এইদেশে এতো হাজার কোটি, শত কোটি টাকার মালিক রয়েছেন আপনারাও যদি একটু সুনজর দিতেন তাহলেও মানুষ একটু স্বস্তি পেত, আপনাদের কি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও এই কাজে এগিয়ে আসা উচিত না?

আপনি যে আজকে হাজার কোটি, শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার পিছনে তো এই দেশের গরীব মানুষের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা একটু সর্দি কাশি হলেই মাউন্ট এলিজাবেথ, ইউরোপ- আমেরিকায় চিকিৎসা নিতে যান কিন্তু যাদের কাঁধে ভর করে আপনি এই অবস্থানে সেই মানুষদের জন্য কিছু করা তো আপনাদের দায়িত্ব। গত কয়েকদিন আগে ঢাবির টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আমি বলেছিলাম- যেদিন আমাদের দেশের এমপি- মন্ত্রীরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে আসবে সেদিন থেকে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা কেটে যাবে।’

আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণের সরকার এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা শীঘ্রই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই করুণ দশা কাটিয়ে উঠতে গভীর মনোযোগ দিবেন।’

এসএইচ/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর