বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ব্যক্তিস্বার্থে সড়কের গাছ কর্তন, বিএনপির সেই নেতার পদ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যক্তিস্বার্থে সড়কের গাছ কর্তন, বিএনপির সেই নেতার পদ স্থগিত
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ও গাছ কাটার ছবি।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর সব দলীয় পদ স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


দলীয় সূত্র জানায়, নিজ বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করতে কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ব্যক্তিগত স্বার্থে কেটে ফেলার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন ঠেকাতে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন তাঁরা।

অভিযোগ রয়েছে, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।


বিজ্ঞাপন


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আমি কেন গাছ কাটব? আমার কাটার কোনো দরকার নেই। এগুলো সরকারি জায়গা নয়। যার যার জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়েছে। বেড়িবাঁধও সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত নয়।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় বলেন, বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় খোয়াব নামের একটি বেসরকারি সংস্থা রোপণ করেছিল। উপকারভোগী স্থানীয় দুঃস্থ নারী ও এলজিইডি বিষয়টি দেখভাল করছে। এটি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।

অন্যদিকে মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৫-৯৬ সালে বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং তখনই গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কাটার বিষয়টি জানার পর স-মিলে অভিযান চালিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর