ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জনগণের জানমাল রক্ষায় আইন সর্বোচ্চভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ওয়ারী জোনের ডিসি কার্যালয়ে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খাইরুলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।” উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকাকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, তা করতে হবে।
কামাল হোসেন আরও বলেন, ঢাকা-৫ এলাকায় শুধু ভোটার নয়, বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ বসবাস করেন। “কে আমাকে ভোট দিয়েছে বা দেয়নি, কে ভোটার আর কে নন—এটা বিবেচ্য বিষয় নয়। এখানে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের জানমাল ও সম্মান রক্ষা করা আমার দায়িত্ব,” বলেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, বরং পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধি—এ কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে যে কমিটমেন্ট দিয়েছি, সেখান থেকে এক বিন্দুও নড়ব না। আমার জীবনের ওপর হুমকি এলেও আমি পরোয়া করি না। জীবনের নিরাপত্তা আল্লাহ সুবহানুতায়ালার হাতে।” অতীত রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সাড়ে পনের বছরে তিনি নয়বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন। তবে কোনো অপরাধীর ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কামাল হোসেন পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলেন, “আমার নামে, আমার দলের নামে বা অন্য কোনো দলের নামে কেউ অপরাধ করলে তার কোনো ছাড় নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ব্যক্তি বা দলের পরিচয় নয়—অপরাধ করলে আইনের আওতায় আসতেই হবে। সবার জন্য আইন সমান।”
বিজ্ঞাপন
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ারী জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মাসুদ রানা, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রাজু, ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা ও কদমতলী থানার ওসি মো. আশরাফসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. শাহরিয়ার, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এর সমন্বয়ক লুতফর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন-এর জুবায়ের আল মাহমুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা ঢাকা-৫ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
টিএই/এআর




