গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর আর আলাদা করে শপথ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সংসদের শপথ হয়েছে, সেখানে শপথ নিয়েছি। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে, গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণে পার্লামেন্টে বিলটা রেইজ (উত্থাপিত) হবে। সংসদে আলোচনা হবে। তাই হ্যাঁ-এর শপথের কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) জাতীয় সংসদে বসামাত্র কার্যকরী হবে। এটাই হবে জুলাই জাতীয় সনদ।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ-এর পাশাপাশি না ভোট হয়েছে, সে না ভোট অনুযায়ী পার্লামেন্টে রেইজ হবে। আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে আবার সেটা নির্ধারণ হবে। কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আইনবিদেরা ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিষয়টি আরও জানা দরকার। সুন্দরভাবে বলা দরকার এবং গ্রহণযোগ্য-বিশ্বাসযোগ্য যে সিদ্ধান্তটি জনসাধারণ দিয়েছে— হ্যাঁ ভোট, সেটি অটোমেটিক নীতিনির্ধারণ অনুযায়ী দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে পার্লামেন্টে কার্যকর হবে।’
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিরোধী দল সরকারকে কীভাবে সহযোগিতা করবেন? দেশটাকে কীভাবে চালিয়ে নেবেন? সহযোগিতা করবেন আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে। দলমত ভিন্ন থাকতে পারে। সব ইস্যুতে বিরোধিতা করব, তাহলে দেশটাকে কীভাবে গড়ব। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। সেটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে গেলে বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। তাই দেশ গড়ার ক্ষেত্রে যারা মব সৃষ্টি করে বাধা দেবে, তারাই দেশের শত্রু হিসেবে পরিণত হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা ও জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর আহমদ ফেরদৌস মানিক, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ এমরান, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক রশিদুল হাসান লিংকন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রতিনিধি/এফএ

