জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারি সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে অপসারণের চেষ্টা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টেলিভিশন-এর চার সাংবাদিককে শোকজ করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, বিএনপি সরকারের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যে চাপ তৈরি হতে পারে, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা তারই ইঙ্গিত বহন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে ফেসবুকে মত প্রকাশের জেরে এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসসের প্রধান সম্পাদককে অপসারণের জন্য ‘কতিপয় বিএনপিপন্থী উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মব সৃষ্টি করেছেন’—এমন অভিযোগও উঠেছে।
এনসিপির ভাষ্য, নতুন সরকার গঠনের এক দিনের মাথায় এসব ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার করুণ চিত্রের প্রাকদর্শন। দলটি মনে করে, বাসসের প্রধান সম্পাদককে অপসারণের চেষ্টা প্রমাণ করে—সংস্থাটি অতীতে সরকারি দলের মতো আচরণ করলেও বর্তমান সরকারের আমলেও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার ঘটনা থেকে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
তবে এনসিপি বলেছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। দলটি চার সাংবাদিককে অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং মাহবুব মোর্শেদকে স্বপদে বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এখন টেলিভিশনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং তাঁদের বার্তাকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করা পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিএইচআরএফ বলেছে, শৃঙ্খলমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে তা স্বচ্ছ নীতিমালা, লিখিত অভিযোগ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত।
এআর

