সারাদেশে বিএনপি ২১৩ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দেশের বৃহৎ এই দলটি রংপুর বিভাগের চার জেলায় ভালো করলেও তিন জেলায় একবারেই ফ্লপ। বাকিগুলোতে সবকটি আসন নিজের কব্জায় থাকলেও তিন আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে অবাক করেছে জামায়াত।
জামায়াত যে তিনটি জেলার সব কটি আসনে জয় পেয়েছে সেগুলোর দুই একটিতে আসন পেলেও অন্যগুলোর ভোট পাওয়ার সংখ্যা খুবই কম। ফলে জাতীয় পার্টি ও বিএনপিকে পেছনে ফেলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দলটি কিভাবে এত ভোট বাগিয়ে নিল, তাতে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। এই বিভাগে জামায়াতে ইসলামী ১৭ আসন পেয়ে চমক দেখিয়েছে।
তবে উত্তরের জেলা রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলার আসনগুলো হাতছাড়া হয়ে গেছে বিএনপি। জেলাগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই দশা বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
বিজ্ঞাপন
যদি জেলা ওয়ারী বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের ব্যবধান হিসেব করা হয়, সেখানে কিছু জেলায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ভোটের খুব একটা ব্যবধান চোখে পড়ছে না। আবার কোনো কোনো আসনে বিএনপি বড় ব্যবধানে জামায়াতকে হারিয়ে দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের তিন আসনে বিএনপির জয়:
ঠাকুরগাঁও জেলায় বেশ দাপট দেখিয়েছে বিএনটি। জেলাটির তিনটি আসনেই জয় পেয়েছে। বেশি চমক দেখিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বিশাল ভোটে জয়লাভ করেছেন, যা রেকর্ড। এই জেলার দুটি আসনে এবার বিএনপি জয় পেলেও আগে একটিতে কোনো স্থান পেত না। বরবারই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল বিএনপি।
ঠাকুরগাঁও-১:
বিজ্ঞাপন
ঠাকুরগাঁও সদর-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪১২ ভোট। বিএনপি এই আসনে জামায়াত থেকে ৯৯ হাজার ৮৯৬ ভোটের বিশাল জয় পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-২
এ আসনটিকে বলা হতো আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। সেখানে এবার দুটি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর এই আসনে বিএনপি থেকে জয়ী হয়েছেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৫ হাজার ৩১০ ভোট।
ঠাকুরগাঁও-৩:
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহেদুর রহমান ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৭৬৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৪১ হাজার ১১৯ ভোট।
পঞ্চগড়ে দুটি আসনই বিএনপির কব্জায়:
পঞ্চগড় জেলায় দুটি আসনই পেয়েছে বিএনপি। তবে তাদের সঙ্গে লড়াই করেছে জামায়াত। আসনটিতে জুলাই আন্দোলনের অগ্রনায়ক সারজিস আলম হেরে যাওয়ায় অনেকে বিস্মিত হয়েছেন।
পঞ্চগড়-১:
এই আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। সারজিসের থেকে ৮ হাজার ভোট বেশি পেয়েছে বিএনপির ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
পঞ্চগড়-২:
এই আসনে বিএনপির পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শফিউল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট।
দিনাজপুরের ছয়টিতেই বিএনপির জয়:
বিএনপি দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে তবে এই আসনগুলো পেতে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে। কোথাও অল্পের জন্য জয় পায়নি জামায়াত। আসনগুলোর ভোটের হিসেব গণনা করে দেখা গেছে, জামায়াত মাত্র দুটি আসনে লড়াই করেছে। বাকিগুলোতে বিশাল ব্যবধানে হেরেছে। তবে বাকি চারটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি।
দিনাজপুর-১:
বীরগঞ্জ ও কাহারোল-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মতিউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ৬১ হাজার ৮৩৩ ভোট বেশি পেয়ে জয় পেয়েছে।
দিনাজপুর-২:
বিরল ও বোচাগঞ্জ- ২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আফজালুল আনাম পেয়েছেন এক লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৩৪ হাজার ৭৩৫।
দিনাজপুর-৩:
দিনাজপুর সদর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৪ হাজার ৩৬৯।
দিনাজপুর-৪:
খানসামা ও চিরিরবন্দর-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৩৭ হাজার ৬৬১।
দিনাজপুর-৫:
পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী ও সদ্য বহিষ্কৃত) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকে ডা আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ ছাড়াও এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৪৪।
দিনাজপুর-৬:
হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ- ৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট। জামায়াত প্রার্থী ১৪ হাজার ৪১৫ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
রংপুর জেলায় সবকটিতে জামায়াতের জয়:
রংপুর জেলায় জামায়াত একটি আসন ছাড়া কখনোই সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু দলটি এবার এই জেলার সবকটি আসন দখলে নিয়েছে। জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে খ্যাত রংপুর সদরেও হানা দিয়েছে দলটি। এতে জাপার দূর্গ খানখান হয়ে গেছে। সেখানে জাপার ডাকে সাড়া দেয়নি ভোটাররা। ফলে বিএনপি ও জাপাকে পেছনে ফেলে জামায়াত ছয় আসন জিতে চমক লাগিয়েছে।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এটিএম আজহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। তিনি হয়েছেন তৃতীয়।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা):
এই আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। তাদের মাঝে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৯ হাজার ৪০২। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ):
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা মো. নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন।
লালমনিরহাট জেলায় তিনটিতেই জয় বিএনপির:
লালমনিরহাট জেলায় তিনটি আসনের মধ্যে সবকটি বিএনপির কব্জায়। এই জেলার দুটি আসনে সাত হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরেছে জামায়াত। তবে একটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি।
লালমনিরহাট-১:
আসন ভিত্তিক চিত্র ধরলে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট । তাদের ভোটের ব্যবধান মাত্র ৭ হাজার ৩০৯ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩ হাজার ৫৬১ জন।
লালমনিরহাট-২:
আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৭ হাজার ১২৭।
লালমনিরহাট-৩:
লালমনিরহাট সদর আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট। বিএনপি এই আসনে প্রায় ৮৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিশাল জয় পেয়েছেন দুলু।
নীলফামারী আসনে চারটিতে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী:
এই জেলার চারটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। সুবিধা করতে পারেনি বিএনপি। বেশিরভাগ সময় এই জেলার একটি আসনে জামায়াত বরাবরই ভালো করলেও আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আর দাঁড়াতে পারেনি। কিন্তু এবার তারা চমক দেখিয়েছে।
নীলফামারী-১:
ডোমার-ডিমলা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. আবদুস সাত্তার ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি–সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম খেজুরগাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট।
নীলফামারী-২:
সদর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আল ফারুক আবদুল লতীফ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট।
নীলফামারী-৩:
জলঢাকা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট।
নীলফামারী-৪
সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবদুল মুনতাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬ ভোট।
গাইবান্ধার চারটিতে জামায়াতের জয়, একটি বিএনপি:
গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটি পেয়েছে জামায়াত আর একটি পেয়েছে বিএনপি। তবে একটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মাত্র তিন হাজার ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।
গাইবান্ধা-১:
সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. মাজেদুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মাদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছেন।
গাইবান্ধা-২:
সদর-২ আসনে জামায়াতের মো. আব্দুল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৩০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের আনিচ্ছুজামান খান বাবু পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৯০ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল মাজেদ; পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬৭ ভোট। ভোটগ্রহণের হার ৬০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গাইবান্ধা-৩:
সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী-৩ আসনে জামায়াতের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ডা. মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান মাত্র ২১ হাজার ৮৫২। ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন পলাশ ২ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
গাইবান্ধা-৪:
গোবিন্দগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মো. শামীম কায়সার লিংকন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. আব্দুর রহিম সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ ভোট। ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার ৫১২টি। লাঙ্গল প্রতীকের মশিউর রহমান ২ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
গাইবান্ধা-৫:
ফুলছড়ি-সাঘাটা-৫ আসনে জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৪১ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১৫ হাজার ১৭২। প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩৭ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়।
কুড়িগ্রামে চার আসনেই জামায়াত জিতেছে:
কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আসন পাওয়ার রেকর্ড নেই। কিন্তু এবার দলটি এই জেলাটিতে চারটি আসনে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছে।
কুড়িগ্রাম-১:
নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী)-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮টি।
কুড়িগ্রাম-২:
সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী-২ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আতিকুর রহমান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট।
কুড়িগ্রাম-৩:
উলিপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট। বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন।
কুড়িগ্রাম–৪:
চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট।
এমআইকে/এএইচ

